
নিজস্ব প্রতিনিধি: মেধাবীদের সম্মাননা জানানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি দেওয়া, তাদের উৎসাহিত করা এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগানো—এসবের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বৃহস্পতিবার ফরিদগঞ্জে এসএসসি ২০০১ ব্যাচের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদানও এমন একটি উদ্যোগ। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের আয়োজন এখন কতোটা ব্যতিক্রমী কিংবা কতোটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে শিক্ষাক্ষেত্রে?
বাস্তবতা হলো, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এখন অনেকটাই নিয়মিত আয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসদ সদস্য, বেসরকারি সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবছর এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ফলে এই সম্মাননা আর নতুন বা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধু ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সম্মাননা নয়; আর্থিক সংকটে উচ্চশিক্ষার পথে বাধাগ্রস্ত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোও জরুরি। অদম্য মেধাবীদের খুঁজে বের করে তাদের বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা ও শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করা দরকার। সামান্য সহযোগিতাও একজন অসচ্ছল শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এসএসসির তুলনায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন অনেক ক্ষেত্রে বেশি কঠিন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ও ভবিষ্যৎ গড়ার চ্যালেঞ্জ থাকে। অথচ এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য যতটা আয়োজন দেখা যায়, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারীদের ক্ষেত্রে তেমন উদ্যোগ সচরাচর চোখে পড়ে না। এই বৈষম্যপূর্ণ প্রবণতা নিয়েও ভাবা প্রয়োজন।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার বিরোধিতা নয়; বরং এমন আয়োজনকে আরও অর্থবহ ও মানবিক করার আহ্বান। আয়োজকদের উচিত সম্মাননা স্মারক দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র তহবিল বা ‘পুওর ফান্ড’ যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে নিয়মিত সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
একটি সম্মাননা স্মারক সাময়িক আনন্দ ও অনুপ্রেরণা দিতে পারে, কিন্তু একজন অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো তার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। তাই গতানুগতিক সংবর্ধনার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে মেধা ও মানবিকতার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত লক্ষ্য।