
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হকের নির্দেশে হাজীগঞ্জে একটি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে উপজেলার ৯ নম্বর গন্ধর্ব্যপুর (উত্তর) ইউনিয়নের ‘মোল্লা খোড়’ এলাকাকে এ প্রকল্পের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানটিকে স্টেডিয়ামের জন্য চমৎকার ও সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে মোল্লা খোড় এলাকার অবস্থান। স্থানীয়দের মতে, সেখানে স্টেডিয়াম নির্মিত হলে খেলাধুলার প্রসারের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ পাবেন।
মোহাম্মদপুর গ্রামের নদীর পাড়ে ‘ডাকাতিয়ার চর’ নামে পরিচিত বিশাল ফাঁকা জমিটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত। ওই এলাকায় একটি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভয়াশ্রম অক্ষুণ্ণ রেখে পাশের ফাঁকা জমিতে আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা সম্ভব।
নথি অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর মৌজার সাবেক ১৩০ ও ১৪৬ দাগের অংশবিশেষ এবং বর্তমান ১২৭০ দাগে প্রায় ১,২০৫ শতাংশ জলাভূমি রয়েছে। মাছের প্রজনন ও বিচরণ উপযোগী পরিবেশ রক্ষায় মৎস্য বিভাগ প্রতিবছর সেখানে মৎস্য অভয়াশ্রম পরিচালনা করে।
সম্প্রতি হাজীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক জানান, স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে মোল্লা খোড় এলাকা পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, সংসদ সদস্য বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। দু-এক দিনের মধ্যে মোল্লা খোড় এলাকা পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক বলেন, মোল্লা খোড়ে স্টেডিয়াম নির্মিত হলে যাতায়াতের জন্য নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে। মৎস্য অভয়াশ্রমের ক্ষতি না করে সেখানে স্টেডিয়াম করা সম্ভব কি না, তা যাচাইয়ের দায়িত্ব ইউএনওকে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এক পাশে ডাকাতিয়া নদী, অন্য পাশে মৎস্য অভয়াশ্রম ও সবুজে ঘেরা গ্রামীণ পরিবেশের কারণে এলাকাটি দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠবে। তাদের দাবি, এতে স্থানীয় মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।