1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - : AADI BANGLA
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
উদ্দমদী মাদক বিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণ মতলব পৌরসভায় সাবেক চেয়ারম্যানের স্মরণে শোকসভা উচ্ছেদের পরও দখলে শাহরাস্তির কালিবাড়ি মাঠের একাংশ, থামছে না দখলদারিত্ব ব্যাবসায়ী মারুফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ! রামপুরে ছুরিকাঘাত করে যুবককে হত্যার চেষ্টা! প্রকাশ্যে আসামী রহমান রাজারগাঁও উদয়ন সংঘের মেধা যাচাই বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন শাহরাস্তির দোয়াভাঙ্গায় সুন্দরবন স্টিল কর্পোরেশনের দ্বিতীয় শাখার উদ্বোধন চাঁদপুর সরকারি কলেজে এইচএসসিতে পাসের হার ৮৫.৪৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৯ জন শাহরাস্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভরাডুবি, পাসের হার ৪৪.৮৮ শতাংশ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বাবুরহাটে মেগা ফাইনাল ফুটবল টুর্নামেন্ট

উপহার চাই, দেবে আমায়

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে
উপহার চাই, দেবে আমায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিকেলের শেষ আলো জানালার কাচ ভেদ করে ঘরের মেঝেতে এসে পড়েছে। বারান্দায় বসে আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল হাকিম সাহেব। সামনে চায়ের কাপ, পাশে কয়েকটি পুরোনো বই থাকলেও সেদিন কোনো কিছুতেই তাঁর মন বসছিল না।

হঠাৎ পাশের বাড়ি থেকে এক মায়ের কান্না, শিশুর চিৎকার, দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ ও উত্তেজিত কণ্ঠ ভেসে এলো। দৃশ্যটি তাঁকে ভাবিয়ে তুলল—সন্তানদের হাতে প্রয়োজনীয় সবকিছু তুলে দিলেও তাদের হৃদয়ে মানুষ হওয়ার মূল্যবোধ গড়ে তোলা হচ্ছে কি না।

নিজের ছাত্রজীবনের কথা মনে করে হাকিম সাহেব উপলব্ধি করেন, শিক্ষা শুধু ভালো ফল বা সনদ অর্জনের বিষয় নয়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের বিবেক জাগায়, অন্যের দুঃখ বুঝতে শেখায় এবং সত্যের পথে চলার সাহস দেয়।

এই ভাবনার সঙ্গে তাঁর নিজের ছেলে রায়ানের জীবনের পরিবর্তনের কথাও মনে পড়ে। রাশেদ ও নাসিমার একমাত্র সন্তান রায়ান একসময় পড়াশোনায় মনোযোগী ও বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল। কিন্তু স্মার্টফোন হাতে পাওয়ার পর অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটানো, রাত জাগা, পড়াশোনায় অমনোযোগ এবং মায়ের কথায় বিরক্তি তার স্বাভাবিক আচরণ বদলে দেয়।

স্কুল থেকে রায়ানের পড়াশোনায় অনিয়ম ও খারাপ ফলাফলের কথা জানানো হলে নাসিমা ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একদিন তাকে নাশতা খাওয়াতে ‘সুন্দর একটি জিনিস’ আনার কথা বললেও বাস্তবে তিনি কিছু আনেননি। বিষয়টি বুঝতে পেরে রায়ান মাকে মিথ্যা বলার জন্য প্রশ্ন করলে নাসিমা নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। এতে রায়ান বুঝতে পারে, বড়রাও ভুল করেন এবং ভুল স্বীকার করাও শিক্ষার অংশ।

কাজের সূত্রে বিদেশে থাকা রাশেদ ছেলের জন্য অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করলেও তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে পাশে থাকতে পারেননি। নাসিমার কাছ থেকে রায়ানের বিষয়ে জানার পর তিনি উপলব্ধি করেন, সন্তানের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু অর্থ নয়, বাবা-মায়ের সময় ও সঙ্গও।

রাশেদ ছেলেকে একটি চিঠিতে লেখেন, সে যেন শুধু ভালো চাকরি বা নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা না ভাবে; বড় মনের মানুষ হয়, অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ায় এবং অন্যের অধিকার রক্ষা করতে শেখে। তাঁর মতে, সনদ মানুষকে শিক্ষিত পরিচয় দিতে পারে, কিন্তু চরিত্রই তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

চিঠিটি পড়ে রায়ানের মধ্যে পরিবর্তনের ইচ্ছা জাগে। পরিবারে পড়াশোনার নির্দিষ্ট সময়, মোবাইল ব্যবহারের সীমা, একসঙ্গে খাবার খাওয়া এবং প্রতিদিন বই পড়ার নিয়ম চালু হয়। মা-বাবাও নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনেন। নাসিমা ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করেন এবং রাশেদ নিয়মিত তার সঙ্গে কথা বলেন।

ধীরে ধীরে রায়ান আবার বই পড়তে শুরু করে, মায়ের কাজে সহযোগিতা করে, দাদির ওষুধ এনে দেয় এবং ছোটদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে। একদিন সে এক বৃদ্ধকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করে। স্কুলের অভিভাবক সমাবেশে শ্রেণিশিক্ষকও তার পড়াশোনা ও আচরণগত উন্নতির কথা জানান।

রায়ান পরে বাবাকে জানায়, সে বড় হয়ে শুধু অর্থ উপার্জন করতে চায় না; এমন মানুষ হতে চায়, যার জন্য মানুষ দোয়া করবে। রাশেদ ও নাসিমা উপলব্ধি করেন, সন্তানের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ জমি, বাড়ি বা টাকা নয়—সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও সুন্দর চরিত্র।

সন্তানকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি বর্তমানেও তার পাশে থাকা, ভালোবাসা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও আদর্শ দেখানো জরুরি। শিশুর হৃদয়ে আজ যে মূল্যবোধ বুনে দেওয়া হবে, আগামী দিনের সমাজে তারই প্রতিফলন ঘটবে।

প্রত্যাশা এমন এক সন্তানের, যার হাতে থাকবে জ্ঞানের আলো, হৃদয়ে মনুষ্যত্ব, চরিত্রে সততা এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে নৈতিকতার প্রকাশ। এমন সন্তানই হতে পারে পরিবার ও সমাজের অমূল্য সম্পদ।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট