
মোঃ হানিফ মিয়াজি শাহরাস্তি প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় একের পর এক সরকারি খাল দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী মহলের দখলদারিত্বের কারণে দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন খালগুলো।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এতে ক্ষোভ বাড়ছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও নিজমেহার, সূচীপাড়া, বিজয়পুর, রগুরামপুর, দশনাপাড়া, নরিংপুর ও চিতোষীসহ একাধিক স্থানে সরকারি খাল ভরাট করে পাকা দোকান, বসতঘর ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, এসব খাল একসময় কৃষি সেচ ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু দখলদারদের কারণে এখন অনেক খালের অস্তিত্বই বিলীন হওয়ার পথে। কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মোঃ শাহ ইমরান (দিপু) জানান, বিজয়পুর বাজার সংলগ্ন খাল দখল করে দোকান নির্মাণের বিষয়ে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দখলদাররা আগের মতোই অবস্থান করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা লায়ন মোহাম্মদ হোসেন (রানা) বলেন, বিজয়পুর থেকে নাহারা গ্রামের সংযোগ খাল ভরাটের বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৬ জুন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি খাল উদ্ধার করা না হলে ভবিষ্যতে শাহরাস্তি উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।