মোঃ হানিফ মিয়াজি
শাহরাস্তিতে দুই প্রবাসীর ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, উপজেলার নিজমেহার মিয়াজী বাড়ির বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেনের শ্যালক প্রবাসী মনির হোসেন ও জসিম হোসেন সম্প্রতি জনৈক শাহ আলমের কাছ থেকে মেহের কলেজ রোডের দক্ষিণ পাশে উপলতা মৌজার খতিয়ান নং-২৫/২৯৬৭ এর দাগ নং-২২৪৪ এ ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে তারা নিজেদের নামে খারিজ সম্পন্ন করে জমিটি বুঝে নেন। পরবর্তীতে জমিতে বালু ভরাট করে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এরই মধ্যে উপলতা গ্রামের মেহের কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা মো. রহিম, মো. খালেক, এমরান, মো. হাবিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জন ব্যক্তি ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীদের নির্মিত টিনের ঘরটি ভেঙে সেখানে নিজেরা একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন।
এ সময় মো. দেলোয়ার হোসেন বাধা দিলে তাকে গালমন্দ ও মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে দেলোয়ারের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রথমে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করে শালিসের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে অভিযুক্তরা শালিস বৈঠকে উপস্থিত হতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তিনি বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বৈঠকে বসে জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে রহিম গংদের নির্মিত অবৈধ টিনের ঘর ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে শালিসে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাও বর্তমানে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, বারবার শালিসদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো ফল পাচ্ছি না। অভিযুক্তরা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি – ধমকি দিচ্ছে। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুর রহিমের পুত্র আহসান হাবীব জানায় এই জায়গা আমরা ২০০২সাল থেকে ভোগদখল করে আসিতেছি এখন যদি কেউ মালিকানা দাবি করে তবে তাদের বলেন, কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন।
এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।