
বিনোদনপ্রিয় মানুষের জীবনে আড্ডার গুরুত্ব অপরিসীম। সময় কাটানোর পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, তথ্য হালনাগাদ ও সম্পর্ক নির্মাণে আড্ডা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাঙালির আড্ডাপ্রিয়তার সঙ্গে পরচর্চা ও পরনিন্দার মতো নেতিবাচক দিক থাকলেও আড্ডাই বাঙালির প্রাণ; কফি হাউজের আড্ডা আজও বাঙালিকে স্মৃতিভারাতুর করে তোলে।
শৈশবে দখিনের কাঁঠালগাছের ডালে তিন চাচাতো-জেঠাতো ভাইয়ের আড্ডায় ফুটে উঠত অপরিণত বয়সের স্বপ্ন ও চাওয়া-পাওয়া। সময়ের সঙ্গে সেই নিষ্পাপ আড্ডা হারিয়ে গেলেও তার স্মৃতি রয়ে গেছে। সেই আড্ডার কনিষ্ঠ রিটু শিক্ষকতা জীবন শেষে অনন্তলোকে পাড়ি দিয়েছেন। জ্যেষ্ঠজন চিত্রসেন সৈনিকজীবন শেষে এখন ক্যাঙ্গারুর দেশে; আর লেখক সময়কে পরখ করে চলেছেন।
সেন্ট প্ল্যাসিডস্ স্কুলে সৌরিণ ও ঋষির সঙ্গে ক্লাসের ফাঁকে চলত আড্ডা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় পিকেটিং ও হরতাল ঘিরে দোকানপাট, মিষ্টি, বাটার ও পরোটার স্তূপ নিয়ে কিশোরসুলভ কল্পনাও সেই আড্ডার অংশ ছিল।
পরে পি কে সেন সংলগ্ন মনোহরখালী বন্দরের মাঠে ফুটবল শুরুর আগে জমত নির্ভার আড্ডা। আসরের পর থেকে মাগরিবের আজান পর্যন্ত চলা সেই কথাবার্তায় ছিল নির্মল সখ্য। কলেজিয়েট স্কুলের সতীর্থদের আড্ডায় ছাত্র-শিক্ষক, পরীক্ষা ও সিনেমা নিয়ে রসিকতা জায়গা করে নিত।
কলেজজীবনে বোটানি চত্বর, মেডিকেল ভর্তি কোচিং ও মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন স্থান হয়ে ওঠে আড্ডার কেন্দ্র। বন্ধুত্ব, রসিকতা, সাংকেতিক ভাষা, পড়াশোনা ও ক্যাম্পাসজীবনের নানা ঘটনা এসব আড্ডাকে প্রাণবন্ত করে রাখত।
কর্মজীবনে এভারগ্রিন ক্লিনিকের আড্ডায় যোগ হয় চিকিৎসা, সাহিত্য ও বন্ধুত্বের নানা প্রসঙ্গ। পরে সেই আড্ডার রেশ মেঘনার তীরে মিডল্যান্ডেও পৌঁছায়। জীবনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা এসব আড্ডা স্মৃতি, সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতাকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।