
চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ ও সদর সিনিয়র সিভিল জজের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও অশোভন আচরণের অভিযোগ তুলে তাঁদের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, কর্মসূচিটি আইনজীবীদের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থের সঙ্গেও যুক্ত। বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন। তাঁর দাবি, প্রায় পাঁচ মাস ধরে বার ও বেঞ্চের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। এ কারণে আইনজীবীরা আন্দোলনে নেমেছেন।
শামছুল ইসলাম মন্টুর অভিযোগ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বিচারকদের বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও আইনজীবীদের বক্তব্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং নিজেদের ইচ্ছেমতো বিচারকার্য পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
কয়েকজন বিচারকের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কোনো আইনজীবীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানান তিনি। হুমকি দেওয়ার অভিযোগ থাকা বিচারকদের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে উল্লেখ করেন। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন। তাঁদের দাবি, বিচারকদের পাশাপাশি আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও পেশকারদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। আদালতের বিভিন্ন কাজে কেউ কেউ অর্থ আদায়কে নিয়মে পরিণত করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের প্রত্যাহারের দাবিও জানান বক্তারা।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি অ্যাড. সেলিম আকবর, আহছান হাবীব, কামাল উদ্দিন, জহির উদ্দীন বাবর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন, জসিম মেহেদী, সিনিয়র আইনজীবী ওমর ফারুক টিটো, তাফাজ্জল হোসেন, জাবের হোসেন, সুপ্তা, আবু সায়েম, তৌহিদুল ইসলাম তরুণ, মানসুরী, শাহ আলম ফরাজী ও শেখ জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকে।
এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর তিন বিচারকের প্রত্যাহারের দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সভা করেন আইনজীবীরা। তারও আগে ৯ সেপ্টেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে প্রায় সাড়ে চার শ আইনজীবীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত জরুরি সাধারণ সভায় তিন বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।