
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ জুলাই ৮১ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সুরমা এন্টারপ্রাইজ’। একই বছরের ১৮ নভেম্বর সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৮ কোটি টাকা। কাজ শুরুর পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নানা অজুহাতে নির্মাণকাজের গতি কমিয়ে দেয় বলে জানা গেছে।
বর্তমানে সেতুর মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দে অ্যাপ্রোচ সড়কের জন্য দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পায় ‘সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটি নদীর পশ্চিম অংশে কাজ শুরু করতে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের বাধার মুখে পড়ে। পরে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
বিষারা পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতি আলী আজম বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই জমি অধিগ্রহণ ছাড়া মূল সেতুর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। ক্ষতিপূরণের দাবিতে ১৩টি খতিয়ানের বিবরণসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, বাবার কাছ থেকে পাওয়া দুই শতক জমিতে ঘর তুলে সন্তানদের নিয়ে তিনি বসবাস করছেন। ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি হারালে তাঁদের পথে বসতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
শাহরাস্তি উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম জানান, অ্যাপ্রোচ সড়কের দরপত্র সম্পন্ন হলেও জমি-সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেই দরপত্র আহ্বান করা উচিত ছিল।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের ক্ষতিপূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।