
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ‘কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না, কারণ কোনো আয়াত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়’—মর্মে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে মন্ত্রীকে বিটিভিসহ যে কোনো গণমাধ্যমে তিন ঘণ্টার সরাসরি বিতর্কে বসার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন নর্থ আমেরিকার মুসলিম এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ড. আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম বাবর আজহারী। একই সঙ্গে তিনি মন্ত্রীকে বক্তব্যের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ ও তওবা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত ৩৮তম ওরছে ইমামে রাব্বানী ও হিজবুর রাসুল সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ চ্যালেঞ্জ জানান।
বাবর আজহারী বলেন, সরকারে বা সরকারের বাইরে কেউ পবিত্র কোরআনের কোনো হুকুম বা আইনকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ দাবি করলে উম্মতে মুসলিমার পক্ষ থেকে তিনি বিটিভি বা যে কোনো উন্মুক্ত গণমাধ্যমে তিন ঘণ্টার লাইভ বিতর্কের আহ্বান জানাচ্ছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রী ইংরেজিতে যুক্তি উপস্থাপন করবেন এবং তারা কোরআন ও ইসলামের পক্ষে তা খণ্ডন করবেন।
আইনবিষয়ক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবজাতির আইনি অগ্রগতিতে মুসলমানদের অবদান রয়েছে এবং আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি রচনায় ইমামে আজম আবু হানিফা (র.)-এর অবদান ছিল। তার দাবি, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম মনীষীরা যে আইনি কাঠামো রেখে গেছেন, তা আধুনিক আইনি ব্যবস্থার চেয়েও সমৃদ্ধ।
কোরআনের আইনি কাঠামোর মতো বিষয়ে মন্তব্যের ক্ষেত্রে মন্ত্রীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যটি নিশ্চিত হলে আইনমন্ত্রীর অবিলম্বে তওবা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন বাবর আজহারী।
ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সাইয়েদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল-মাদানীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্য আলেমে দ্বীন বক্তব্য দেন। অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবায়ের, অধ্যক্ষ আল্লামা এস এম ফরিদ উদ্দিন এবং মাওলানা মোশারফ হোসেন হেলালীসহ অন্য বক্তারাও আলোচনায় অংশ নেন।
মাওলানা মুফতি আবুল হাশেম শাহ মিয়াজীর সঞ্চালনায় বাদ আসর শুরু হওয়া ওয়াজ মাহফিল সারারাত চলে। ফজর নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার মুসল্লি অংশ নেন।