
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের পুরাণ বাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মধ্য শ্রীরামদী এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য জমা দেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা এবং খাদ্যসামগ্রী হিসেবে চাল, আলু, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন ধরনের তরকারি বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির তৃতীয় দিনে এলাকার দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে এসব উপহার গ্রহণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, পুরাণ বাজার পৌর ২নং ওয়ার্ডের মধ্য শ্রীরামদী এলাকায় নির্ধারিত ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বাসাবাড়ি ও দোকানের ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় ফেলে রাখেন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি এলাকার সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ‘ক্লিন চাঁদপুর’ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে এলেও বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্যসামগ্রী ও গাছের চারা দেওয়ার উদ্যোগটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এলাকার গৃহিণী পারুল বেগম বলেন, আমাদের এলাকায় ডাস্টবিন থাকার পরও অনেকে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলেন। ক্লিন চাঁদপুর বিভিন্নভাবে মানুষকে সচেতন করে আসছে। এবার বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্যসামগ্রী ও গাছের চারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। আমিও ময়লা-আবর্জনা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তরকারি পেয়েছি।
‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই ‘ক্লিন চাঁদপুর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হলো মানুষকে সচেতন করে আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা।
তিনি বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতেই আমরা বর্জ্যের বিনিময়ে চাল, পেঁয়াজ, আলু ও গাছের চারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। তৃতীয় দিনেও মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। প্রতি সপ্তাহে একদিন চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
ক্লিন চাঁদপুরের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, বর্জ্যকে শুধু আবর্জনা হিসেবে না দেখে সচেতনতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস আরও কার্যকরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। ‘বর্জ্য জমা দিন, খাদ্য ও গাছ নিন’ কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে যেমন নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস তৈরি হবে, অন্যদিকে শহরে বাড়বে সবুজের পরিমাণ।