
আন্তর্জাতিক শংকর মঠ ও মিশনের পঞ্চম আচার্য যোগাচার্য অধ্যক্ষ পরমহংস শ্রীশ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজের শুভাগমন উপলক্ষে মতলব দক্ষিণ উপজেলার লামচরী ব্রহ্মানন্দ যোগাশ্রমে দুদিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শতকণ্ঠে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, দীক্ষা দান, গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্র ও শনিবার, লামচরী ব্রহ্মানন্দ যোগাশ্রম প্রাঙ্গণে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের ভাষ্য, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
১৮ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মমুহূর্তে মঙ্গল আরতির মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর প্রভাতীয় শিব স্তুতি, গুরু বন্দনা, হরি ওঁ কীর্তন ও শ্রীশ্রী চণ্ডী পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। পরে ভক্তদের অংশগ্রহণে শতকণ্ঠে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। এরপর আগ্রহী ভক্তদের জন্য দীক্ষা দান, গুরুদেবের আলোচনা ও ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হবে। দিন শেষে ভক্ত, শ্রোতা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।
১৯ সেপ্টেম্বরও মঙ্গল আরতি, প্রভাতীয় শিব স্তুতি, গুরু বন্দনা ও হরি ওঁ কীর্তনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর শ্রীশ্রী গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। পরে দীক্ষা দান, গুরুদেবের আলোচনা ও বিশেষ ধর্মসভা হবে। মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনের আয়োজন শেষ হবে।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ‘অসাম্প্রদায়িকতা ধর্মের ভূষণ’ শীর্ষক ধর্মীয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড আন্তর্জাতিক শংকর মঠ ও মিশনের পঞ্চম অধ্যক্ষ শ্রীশ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ। বিশেষ অতিথি থাকবেন শ্রীশ্রীমৎ স্বামী মুক্তানন্দ গিরি মহারাজ, শ্রীশ্রীমৎ সেবানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ ও শ্রীশ্রীমৎ সূচেতনান্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ। সভাপতিত্ব করবেন লামচরী ব্রহ্মানন্দ যোগাশ্রমের সভাপতি শংকর রাও নাগ।
স্বাগত বক্তব্য দেবেন যোগাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক সমরেশ হাওলাদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন স্থানীয় ইউপি সদস্য তাপস সরকার।
আয়োজকদের দাবি, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা, আধ্যাত্মিক চেতনা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী ও ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী, ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম হবে। অনুষ্ঠান সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।