
দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি যাদের ঘাম ঝরানো উপার্জন, সেই প্রবাসীদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ও পারিবারিক প্রতারণার চিত্র নিত্যদিনের এক বেদনাবিধুর বাস্তবতা। ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরপোয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেনের গল্পটি কেবল একজন ব্যক্তির দুর্দশা নয়; এটি আমাদের সমাজব্যবস্থায় প্রবাসীদের প্রতি স্বজনদের অকৃতজ্ঞতা ও আইনি সুরক্ষার ভঙ্গুর রূপটিকে উন্মোচিত করেছে।
জীবনের ১৮টি বছর সৌদি আরবে কঠোর পরিশ্রম করেছেন কামাল হোসেন। পরিবারের স্বাচ্ছন্দ্য, ভাই-বোন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি প্রবাসে শ্রম দিয়েছেন। তবে প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থে যারা স্বাবলম্বী হয়েছেন, দেশে ফেরার পর সেই সহোদরদের বিরুদ্ধেই দাঁড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
কামাল হোসেনের অভিযোগ অনুযায়ী, তার জমিজমা দখল, বসতঘরের অংশ ভাঙচুর এবং প্রবাসে ফিরে আসা ঠেকানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানো এই ব্যক্তি নিজের ভিটেমাটিতেই ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন প্রবাসীর উপার্জনে পুরো পরিবার উপকৃত হওয়ার পরও দেশে ফিরে তিনি নিজের অধিকার ও জমি থেকে বঞ্চিত হলে তা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। এমন ঘটনা অন্য প্রবাসীদের মধ্যেও ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজপতিদেরও এ ধরনের অন্যায় প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।