
অনুমতি বা কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া তারকাদের এনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন, হাজার হাজার মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত জনস্রোত, তীব্র যানজট এবং সাধারণ মানুষের মোবাইল চুরির ঘটনায় চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস মোড়ের ‘আমার বাইক’ শোরুমের উদ্বোধন অনুষ্ঠান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ‘আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ’ বা ক্ষমা চাওয়ার বক্তব্য এলেও, এমন আয়োজনের দায় শুধু ক্ষমা প্রার্থনায় শেষ হয় কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যস্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বড় জনসমাগম আয়োজনের আগে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া দায়িত্বশীলতার অংশ। তবে আয়োজকেরা সেই প্রস্তুতি ও অনুমতির ব্যবস্থা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ সড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চারটি টিমকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
ভিড়ের সুযোগে সাধারণ মানুষ ও দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তার মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত নয়টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জননিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ঝুঁকিতে পড়ার জন্য এমন আয়োজনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আয়োজক প্রতিনিধি কাওছার আলমের দাবি, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দাওয়াত দেওয়া হয়নি; মানুষ নিজে থেকেই এসে পড়েছে। তবে ইনফ্লুয়েন্সার বা সেলিব্রিটিদের উপস্থিতির প্রচারণার পর সৃষ্ট জনসমাগমের দায় এড়িয়ে যাওয়ার এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে সমালোচনা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা ব্যবহার করে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগের সঙ্গে সামাজিক ও আইনি দায়বদ্ধতাও থাকা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে অনিয়ন্ত্রিত জনসমাগম ঘটিয়ে জনভোগান্তি ও অপরাধের সুযোগ তৈরি হলে শুধু মৌখিক ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির দাবি উঠেছে।