
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে তখন নদীর গল্প। আলো-আঁধারির আবহে কখনো ভেসে আসে জেলেজীবনের দীর্ঘশ্বাস, কখনো রূপালী ইলিশের ঝলক, আবার কখনো জীবিকার তাগিদে নদীতে নামা মানুষের অসহায় সংগ্রামের ছবি। দর্শক সারিতে বসে থাকা মানুষগুলো যেন কিছুক্ষণের জন্য চলে যান চাঁদপুরের সেই চিরচেনা নদীপাড়ে।
ইলিশের বাড়ি হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের মেঘনা নদী, জেলে, মাছঘাট এবং নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবন নাটকের প্রধান অনুষঙ্গ। রূপালী ইলিশের আড়ালে থাকা জেলেপরিবারের অভাব, অনিশ্চয়তা ও জীবিকার লড়াই কবি, নাট্যকার ও নাট্যশিল্পী জসীম মেহেদীর রচনা ও নির্দেশনায় অনন্যা নাট্যগোষ্ঠীর প্রযোজনা ‘জলরূপালী’তে উঠে এসেছে।
নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭ উপলক্ষে চাঁদপুর থিয়েটার ফোরাম আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের সমাপনী দিনে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যায় নাটকটির দ্বিতীয় মঞ্চায়ন হয়। মঞ্চায়নের পর নাটকটি দর্শকদের আগ্রহ ও প্রশংসা কুড়ায়।
ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি হলে কর্মহীন হয়ে পড়েন অসংখ্য জেলে। রাষ্ট্রীয় আইন বাস্তবায়ন ও নদী রক্ষার প্রয়োজনের পাশাপাশি জেলেপরিবারের জীবিকার সংকটও নাটকটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বছরে ২২ দিন এবং দীর্ঘ সময়ের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার বাস্তবতা, অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের ভূমিকা নাটকের বিভিন্ন ঘটনায় ফুটে উঠেছে।
দেশজ নাট্যরীতির আঙ্গিকে নির্মিত নাটকটিতে গান, কোরাস, নৃত্য, গায়েনের উপস্থিতি ও আবহসংগীত ব্যবহার করা হয়েছে। নদীকেন্দ্রিক সমাজের নানা শ্রেণি ও মানুষের জীবনবাস্তবতা, আনন্দ, সংকট, প্রতিবাদ এবং অসহায়ত্বের চিত্র এতে তুলে ধরা হয়েছে।
নাট্যকার ও নির্দেশক জসীম মেহেদী বলেন, দেশজ নাট্যরীতির আঙ্গিকে সত্যমূলক একটি কাহিনি মঞ্চে উপস্থাপনের প্রয়াস থেকেই নাটকটি নির্মিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মঞ্চে দেখানো ঘটনাগুলো সমাজের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটছে।
গায়েন চরিত্রে অভিনয় করেন ফাতেমাতুজ জোহরা ও হৃদয় কর্মকার। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন শহীদ পাটোয়ারী, আয়শা সিদ্দিকী আভা, মো. আলমগীর হোসেন পাটোয়ারী, সীমা ইসলাম, জসীম মেহেদী, আখলাকুল ইসলাম লাকু, মানিক দাস, কামরুল ইসলাম, দীপক ভট্টাচার্য, শরীফুল ইসলাম, দুলাল সরকার, নজরুল ইসলামসহ অন্যরা।
নাটকের মিউজিক পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণে ছিলেন মৃণাল সরকার। মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মো. আলমগীর হোসেন পাটোয়ারী ও মানিক দাস। আলোক পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণে ছিলেন গোবিন্দ মণ্ডল ও মামুন হোসেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন হানিফ পাটোয়ারী, জয়রাম রায়, মোবারক হোসেন শিকদার, ফয়সাল ফরাজী, সাবিত্রী রাণী ঘোষ ও অ্যাডভোকেট চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের ১০ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব শেষ হয়।