1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - : AADI BANGLA
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন

প্রাণবন্ত শ্রেণিকক্ষ ও শিশুদের আইস ব্রেকিং

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে
প্রাণবন্ত শ্রেণিকক্ষ ও শিশুদের আইস ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিনিধি: অপরিচিত বা আড়ষ্ট পরিবেশে মানুষের প্রাথমিক সংকোচ দূর করতে ব্যবহৃত খেলা, কার্যক্রম বা কথাবার্তাকে আইস ব্রেকিং বলা হয়। শিক্ষাবিজ্ঞানে এর মাধ্যমে মানসিক জড়তা, নীরবতা, ভয় ও সংকোচ কমিয়ে উষ্ণ, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়। নতুন ক্লাসে বা পাঠের শুরুতে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সামনে কথা বলতে শিশুদের যে সংকোচ থাকে, আইস ব্রেকিংয়ের মাধ্যমে তা দ্রুত কমে আসে।

আইস ব্রেকিংয়ের মাধ্যমে ক্লাসের শুরুতে শিশুদের মনোযোগ অন্য চিন্তা থেকে সরিয়ে পাঠের দিকে আনা যায়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেলামেশা, দলগত মনোভাব, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে ওঠে। ভুল করার ভয় কম থাকায় শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রশ্ন করতে এবং পাঠে অংশ নিতে উৎসাহিত হয়।

উদাহরণ হিসেবে, ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষক তিন মিনিটের একটি ছোট খেলায় বলতে পারেন—‘বৃষ্টি’ বললে শিক্ষার্থীরা টেবিলে আঙুল দিয়ে টুপুর-টুপুর শব্দ করবে, আর ‘ঝড়’ বললে দুই হাত তুলে বাতাসে দোলাবে। এ ধরনের কার্যক্রমে শিশুদের শরীর ও মনের জড়তা কাটে এবং তারা পাঠে মনোযোগী হয়ে ওঠে।

শিক্ষকের পরিচিত কার্যক্রমই আইস ব্রেকার

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্লাসের শুরুতে গল্প বলা, গান গাওয়া, হাততালির মাধ্যমে ছন্দ তৈরি করা বা হালকা কুশল বিনিময়ের মতো কার্যক্রম করেন। এগুলোও আইস ব্রেকার হিসেবে কাজ করে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক পরিভাষাটির সঙ্গে পরিচিত না থাকায় অনেকে এসবকে শুধু পড়া শুরুর আগের সময় কাটানো বা হট্টগোল থামানোর উপায় হিসেবে দেখেন।

শিশুরা নতুন পাঠে প্রবেশের সময় বা সকালে ক্লাসে আসার পর মানসিকভাবে বিক্ষিপ্ত কিংবা আড়ষ্ট থাকতে পারে। এ অবস্থায় শিক্ষক আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় ছোট কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের মনকে শিখন-উপযোগী করে তুলতে পারেন। আইস ব্রেকার ভীতি ও আনন্দের মধ্যে একটি মানসিক সেতু তৈরি করে।

আইস ব্রেকারের প্রয়োজনীয়তা

বিশেষ করে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের নতুন পরিবেশ ও শিক্ষকের প্রতি ভয় থাকতে পারে। হাসির ছোট খেলা বা হাততালির ছন্দ দিয়ে ক্লাস শুরু করলে সেই জড়তা কমে। একইভাবে হাত ওপরে তোলা, দুই পাশে ঝাঁকানো এবং ‘গুড মর্নিং’ বলার মতো কার্যক্রম শিশুদের শরীর ও মনকে সক্রিয় করে পরবর্তী পাঠে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

‘টার্ন অ্যান্ড টক’ পদ্ধতিতে পাশের বন্ধুর একটি ভালো গুণ বা তার পছন্দের খাবার নিয়ে এক মিনিট কথা বলার সুযোগ দিলে শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য বাড়ে। আবার বর্ণমালা বা সংখ্যা শেখানোর আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গভঙ্গি কিংবা ছড়ার খেলা যুক্ত করলে পড়াশোনা আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।

শিক্ষকরা অনেক সময় অবচেতনভাবে এসব কৌশল ব্যবহার করেন। তবে আইস ব্রেকার হিসেবে সচেতনভাবে প্রয়োগ করলে এর কার্যকারিতা বাড়তে পারে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের জন্য এটি এমন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে ক্লাসের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের মনোযোগ এনে ইতিবাচক শিখন পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

রাশেদা আতিক রোজী
ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার (ইউপিইটিসি), চাঁদপুর সদর

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট