
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজনীতিতে দলীয় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে পদ-পদবি নয়, অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াই নীতি হওয়া উচিত।
চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাম্প্রতিক সাংগঠনিক উদ্যোগ এ প্রসঙ্গে আলোচনার দাবি রাখে। ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি চান মিয়া চৌকিদার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া চৌকিদারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়াকে সাংগঠনিক জবাবদিহির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদের বিরুদ্ধেও সালিসের নামে অনিয়মের অভিযোগে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং অভিযুক্তের বক্তব্য শোনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দলের ভেতরে ন্যায়সংগত চর্চা প্রতিষ্ঠায় তা ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপি দলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শোকজ নোটিস দেওয়াই শেষ কথা নয়; নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাব মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়েই উদ্যোগটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হবে।
দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, তদবির-বাণিজ্য, সাধারণ মানুষকে হয়রানি কিংবা আদালত ও প্রশাসনে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও একই নীতি অনুসরণের প্রত্যাশা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার কথাও বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক দলের শক্তি জনসমর্থনের পাশাপাশি নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা ও জনগণের আস্থার ওপরও নির্ভর করে। দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিরপেক্ষ, নিয়মতান্ত্রিক ও সবার জন্য সমান হলে তা রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।