
প্রশ্নটা পড়তেই কি আপনি হোঁচট খেয়ে পড়বেন, নাকি হাস্যকরভাবে এড়িয়ে যাবেন? কিন্তু আর কত দিন? এটা কোনো পরিবারের হোটেল নয়, এটা একটি দেশ। এই ভূখণ্ডে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বসবাস। দেশের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে জনগণ সংসদে ৩৫০ জন প্রতিনিধি পাঠিয়েছে, ভেলকি দেখার জন্য নয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—হচ্ছে কী?
দেশ অর্থনৈতিক চাপ, আইনশৃঙ্খলা সংকট, রাজনৈতিক সহিংসতা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ বাজারদর, জ্বালানি, চাকরি, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যয়, ক্ষমতার প্রদর্শন ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়, উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রয়োজন হলেও জনগণের অগ্রাধিকার কী—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সংসদ শুধু আইন পাসের জায়গা নয়; সরকারের জবাবদিহিরও প্রধান প্রতিষ্ঠান। প্রশাসনের কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যবহার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন উঠতে হবে। সংসদকে কোনো নাট্যমঞ্চ এবং জনগণকে দর্শক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে অপরাধের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন। তবে এসব বক্তব্যের বাস্তব প্রয়োগই হবে সরকারের আসল পরীক্ষা। রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধের ঢাল হতে পারে না—এমন মতও লেখাটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা, ৫৬ জন নিহত এবং ৫,২৪৬ জন আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির কথাও বলা হয়েছে। লেখাটিতে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা মানুষের জানার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সাংবাদিকেরা ভয় পেলে গণতন্ত্রের জবাবদিহি দুর্বল হয়।
তারেক রহমানের অতীত, দীর্ঘ বিদেশবাস, দেশে ফিরে রাজনৈতিক উত্থান এবং বর্তমান রাষ্ট্রীয় ভূমিকা নিয়ে মানুষের নানা প্রশ্ন রয়েছে বলেও লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতি ও অর্থপাচারসহ মামলা ও দণ্ডের ইতিহাস ছিল; পরে আদালতের বিভিন্ন রায়ে তিনি খালাস পেয়েছেন বা আগের দণ্ড বাতিল হয়েছে। লেখাটিতে তাঁর ঘোষিত অবস্থানের বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
লেখাটিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বড় পদ থাকলেই সততা ও বিবেক নিশ্চিত হয় না। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কথা বলা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যক্তিআক্রমণ নয়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, আইনের সমান প্রয়োগ, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা, পুলিশকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে কাজ করতে দেওয়া এবং সংসদকে জবাবদিহির জায়গায় পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশ কোনো পরিবার, রাজনৈতিক দল বা নেতার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়—দেশ জনগণের। ক্ষমতাকে রাজমুকুট নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে লেখাটিতে প্রশ্ন রাখা হয়েছে: সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, নাকি নীরব থাকা হবে? সেখানে নীরবতাকেও একধরনের সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জনগণের কাছে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও কার্যকর রাষ্ট্রের বাস্তব প্রমাণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।