শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ১১টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার-এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিন। তিনি বলেন, কৃষকদের পাট চাষ থেকে নিরুৎসাহিত করা যাবে না। পাট উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলেই আবার আগের মতো পাটের প্রসার ও সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, পাট উৎপাদনে কৃষকের ন্যায্য মজুরি দিতে হবে। তাহলেই পাট উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পাটের গুরুত্ব তুলে ধরে পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, এক সময় পাট থেকে উৎপাদিত নানা পণ্য দেশের বাজার ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতো। কিন্তু পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়া, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি না পাওয়া এবং কৃষকদের লোকসানের মুখে পড়ার কারণে ধীরে ধীরে পাট উৎপাদন কমে যায়।
অথচ পাটকে বলা হয় সোনালী আঁশ। এই সোনালী আঁশের উৎপাদন বাড়াতে না পারলে ভবিষ্যতে এর অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার নাদিরা নূর এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আবু তাহের। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ জহুরুল ইসলাম।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাদের পলাশ এবং কৃষক প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান।
সভায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, এক সময় পাট চাষের মৌসুমে পাটের বিশেষ গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত। এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই কমে গেছে। এর অন্যতম কারণ কৃষকরা পাট চাষে ন্যায্য মূল্য ও পর্যাপ্ত সুবিধা পান না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বর্তমানে আলুর উৎপাদন বাড়ছে কারণ চাষিরা এতে লাভবান হচ্ছেন। একইভাবে পাট চাষেও কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকদের নিয়ে চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর চাঁদপুর প্রেসক্লাবে এ সংক্রান্ত সেমিনার করতে পারেন।এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে চাঁদপুর প্রেসক্লাব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা নৌ পুলিশের প্রতিনিধি ইমতিয়াজ, চাঁদপুরের অন্যান্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত কৃষকরা।
এর আগে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চাঁদপুর জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন হুদা।
উল্লেখ্য, প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বক্তারা পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে কৃষক, উদ্যোক্তা ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় শতাধিক কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাগণ।