
স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ভাটেরগাঁও এলাকায় প্রায় ছয় শতাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তায় ভবন নির্মাণ করে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আব্দুর রব মিজি (৫৫)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে মিজি বাড়ির বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে তৈরি করা এ রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন। পরবর্তীতে কয়েক দফায় সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটি সংস্কার করা হয় এবং এটি ৫০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় হঠাৎ করে এ পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগে জমি ক্রয়ের পর থেকেই আব্দুর রব মিজি রাস্তাটিকে নিজের সম্পত্তি দাবি করে বিভিন্নভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করেন তিনি। সর্বশেষ রাস্তাটির ওপর পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
গত ২২ মার্চ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য মাপজোক করা হয়। এ সময় দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের একটি অংশ রাস্তার ওপর চলে এসেছে। স্থানীয়রা ওই অংশ অপসারণের দাবি জানালেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা অগ্রাহ্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, অভিযুক্তের ছেলে খোকন মিজির বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু এলাকাবাসী নিজেরাই ভবনের রাস্তার ওপর থাকা অংশ ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এবিষয়ে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আঃ রব মিজি এখানে সম্পত্তি ক্রয় করার পূর্বেই এখান দিয়ে রাস্তাটি ছিল। আব্দুর রব মিজি গং সম্পত্তি ক্রয় করার পরেই তিনি রাস্তাটি দিয়ে মানুষ যাতে চলাচল না করতে পারে সেজন্য বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময় মীমাংসা করার চেষ্টা করলেও তিনি তা অমান্য করে। এখন রাস্তার উপর বিল্ডিং নির্মাণ করায় গত পরশু স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে মাফ জরিপের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরো বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত হওয়ায় এটি কোনো ব্যক্তির একক দখলে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রব মিজির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।