
বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট সেবা ভিনদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে না দেওয়া এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও বায়োমেট্রিক তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রিয়াদ প্রবাসী সচেতন নাগরিক সমাজ। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার রাতে রিয়াদের হোটেল রামাদায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম একটি ভিনদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এতে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য ও জাতীয় ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এ সময় বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজালাল ভুট্টো, সালেহ আহমেদ ভূঁইয়াসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, পাসপোর্ট সেবা কোনো ভিনদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর না করার দাবিতে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত স্মারকলিপিটি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, সৌদি আরবে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। প্রবাসীদের সুবিধার্থে দেশটির বিভিন্ন প্রাদেশিক অঞ্চলে বায়োমেট্রিক সুবিধাসহ ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাঁদের দাবি, এই কার্যক্রম বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হলে প্রবাসীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বর্তমানে একটি বিদেশি সংস্থাকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বক্তাদের দাবি, এমন দায়িত্ব দেওয়া হলে তথ্যের গোপনীয়তা ভঙ্গ ও তথ্য পাচারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এতে প্রবাসীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবাসীদের স্বার্থে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।