
ড্যাফোডিল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস’ (এএবিইএ—আবেয়া)-র ২০২৬ সালের দ্বিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন।
২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আয়োজিত তিন দিনের এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলী, স্থপতি, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও অন্যান্য পেশাজীবী অংশ নেন। পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, নেটওয়ার্কিং এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ নিয়ে আলোচনা ছিল সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সম্মেলনের ‘বাংলাদেশের জন্য ফিলানথ্রপি, এডুকেশন অ্যান্ড সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন ড. সবুর খান। তিনি জনহিতকর কার্যক্রমকে স্বল্পমেয়াদি সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, মেন্টরশিপ এবং বৈষম্যহীন সুযোগকে টেকসই সামাজিক প্রভাবের ভিত্তি হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ড. খান বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় কমিউনিটি, শিল্পখাত ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, পেশাজীবীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মেন্টরশিপ, কারিগরি দক্ষতা, প্রকল্প-সংক্রান্ত নির্দেশনা, পেশাগত সংযোগ এবং কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
শিক্ষার অগ্রগতি, জীবিকার মানোন্নয়ন, সামাজিক অংশগ্রহণ ও টেকসই অংশীদারিত্বের মতো দৃশ্যমান ফলাফলের মাধ্যমে সামাজিক প্রভাব পরিমাপের ওপরও জোর দেন তিনি। পাশাপাশি মানুষের তদারকি, তথ্যের গোপনীয়তা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ও নৈতিক ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেন।
বক্তব্যের শেষে বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে থাকা বাংলাদেশি পেশাজীবীদের মধ্যে আরও দৃঢ় সহযোগিতার আহ্বান জানান ড. সবুর খান। মেধার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে যৌথ দায়িত্ব নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।