
লন্ডনে প্রয়াত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী : ইটস্ হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় লন্ডনের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন লন্ডন স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক মুশতাক খান। অনুষ্ঠানে আইনজীবী, লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক ইসলাম সম্পর্কে তাঁর চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা ইসলাম, গণতন্ত্র ও রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং রাজনৈতিক ইসলামের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতিতে চলমান বিতর্ক গুরুত্ব পায়। বক্তারা রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো পর্যালোচনা এবং অতীতের মতপার্থক্য নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বইটিতে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাস, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশে দলটির ভূমিকা এবং সময়ের সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক অবস্থানের বিবর্তন পর্যালোচনা করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ঘটনাবলি ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা, কাঠামোগত সংস্কার এবং উদারপন্থী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মুসলিম রাজনৈতিক ধারার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ও এতে স্থান পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হয়। তাঁর দুই ছেলে—ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক—বাবার জীবন, ব্যক্তিত্ব, পারিবারিক স্মৃতি ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বইটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, ধর্ম ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় অবদান রাখবে। কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রশ্নেও বইটি পাঠক ও গবেষকদের চিন্তায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে তাঁরা মত দেন।
ব্যারিস্টার সাইয়েদ আফজাল জামির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফরিদ আহমেদ রেজা, আইনজীবী তালহা জামিল, তাইসির মাহমুদ, আজিজুর রহমান ও লেখক মঈনউদ্দীন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিচারক মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, ড. আব্দুল বারী, ড. শাহাদাত হোসাইন, ড. কামরুল হাসান, শাহ আলম, বেলাল হোসেনসহ আইনজীবী, সাংবাদিক, লেখক ও কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।