
মিশরের বন্দরনগরী আলেকজান্দ্রিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত প্রায় ২২০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। টানা তিন মাস ধরে তাদের বেতন বন্ধ থাকার পাশাপাশি অন্তত ১৬০ জনের বেশি শ্রমিকের পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশি সাব-কন্ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ নামে ওই সাব-কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে তারা ‘শাইনলার ইজিপ্ট’ নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন। দীর্ঘদিন বেতন না দেওয়া, পাসপোর্ট আটকে রাখা, ওয়ার্ক পারমিট করে দেওয়ার আশ্বাস এবং পাওনা চাইলে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কারখানাটির অপারেটর শুভ জানান, আব্দুল্লাহর কন্ট্রাক্ট লাইনে সাত মাস কাজ করলেও শেষ তিন মাসের বেতন তিনি পাননি। তার ভাষ্য, বেতন ও পাসপোর্ট ফেরত চাইলে আব্দুল্লাহ গালিগালাজ করেন এবং পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার ও শারীরিক নির্যাতনের হুমকি দেন।
শুভর দাবি, প্রায় ১৬০ জন শ্রমিকের পাসপোর্ট সাব-কন্ট্রাক্টরের কাছে রয়েছে। তিন মাস ধরে উপার্জন বন্ধ থাকায় শ্রমিকেরা দেশে পরিবারকে টাকা পাঠাতে পারছেন না; মিশরে বাসস্থান ও খাবারের খরচ চালাতেও তাদের সমস্যা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, গত সপ্তাহে ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক কারখানার অফিসে গিয়ে কোয়ালিটি ম্যানেজার মোহাম্মদ সালাহের সঙ্গে কথা বলেন। তখন কারখানার পক্ষ থেকে ৭৫টি পাসপোর্ট অফিসে থাকার এবং শ্রমিকদের নামে ভিসা প্রস্তুত থাকার দাবি করা হলেও ভিসা দেখানো হয়নি। সালাহ জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ সাব-কন্ট্রাক্টর আব্দুল্লাহর সব পাওনা পরিশোধ করেছে।
আরেক শ্রমিক রাদোয়ন উল্লাহ বলেন, আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন আটকে দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তার দাবি, প্রতিবাদ করলে শ্রমিকদের ঘরে আটকে রাখা, মারধর এবং পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। সাহেব খান নামের এক শ্রমিকও বেতন ও পাসপোর্ট চাইলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীরা মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তারা আটকে থাকা পাসপোর্ট উদ্ধার, তিন মাসের বকেয়া বেতন আদায়, আইনি সহায়তা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় আব্দুল্লাহকে এনে পাসপোর্ট উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। দূতাবাস সূত্রে আরও জানা যায়, শ্রমিকদের আবেদন মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াধীন।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।