1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - : AADI BANGLA
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন

মেঘের সাথে একদিন

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে
মেঘের সাথে একদিন

মেঘ আমার কাছে চির বিস্ময়ের। বিশেষ করে সাদা মেঘ—তুলোর মতো নরম, পালকের মতো হালকা। ডানা ছাড়া মেঘ কীভাবে আকাশে ভেসে থাকে, তা ভেবে উঠতে পারি না। পৃথিবীর আকর্ষণে কাগজের টুকরো মাটিতে পড়ে যায়, অথচ সাদা মেঘ সহজেই আকাশে ভেসে থাকে। দিনের প্রখর আলোয় সাদা মেঘের দিকে তাকানো কঠিন হলেও রাতের কোমল আলোয় তারা আরও রূপবতী হয়ে ওঠে।

মেঘের রং নানা রকম—কালো, ধূসর, লালাভ, ডেটলের ফেনার মতো সাদা, গোধূলিতে হিঙুলের মতো, কোথাও কড়ির মতো শুভ্র, কোথাও খইরঙা। তবে সবচেয়ে বেশি টানে সাদা মেঘ। মনে হয়, তারা আকাশে উড়ে চলা বকের সারি। এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে তাদের কোনো বাধা নেই, কোনো সীমান্তও তাদের থামাতে পারে না। তাই মেঘ যেন বিশ্বনাগরিক। কোনটি বাংলাদেশের আর কোনটি ভুটানের—তা বোঝার উপায় নেই; সব দেশের মেঘই একরকম।

শরতের এক দুপুরে বাসার কাছের সবুজ মাঠে বসে নীল আকাশে সাদা মেঘের শোভা দেখেছিলাম। নীল আকাশের বিপরীতে মেঘের আকৃতি কখনো ময়ূরের মতো, কখনো কুলপি আইসক্রিমের মতো মনে হয়েছিল। শহরের কৃত্রিম আলো ও উঁচু ভবনের কারণে রাতের আকাশে মেঘ দেখা হয় না। তাই পরিষ্কার শরতের রাতে মেঘ দেখতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম।

শারদীয়ার ছুটিতে মা আমাদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেলেন। বাড়িটি নদীর কাছে; দোতলার ছাদ থেকে নদীর দৃশ্য দেখা যায়। প্রবারণা পূর্ণিমায় সেখানে বড় বড় ফানুস ওড়ানো হয়। ফানুসের মুখে বাঁধা তারে মোম পেঁচিয়ে আগুন ধরালে মোম পুড়ে গ্যাস তৈরি হয়, আর সেই গ্যাস হালকা হওয়ায় ফানুস আকাশে উঠে যায়।

গ্রামে পৌঁছে নদীর পাড়, মাঝিদের নৌকা এবং দূরের সাদা কাশফুল দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। সন্ধ্যার পর দোতলার ছাদে একা দোলনায় বসি। চারদিকে জোছনা, আকাশে গোল চাঁদ এবং তার পাশে সাদা মেঘ। মেঘগুলোকে মনে হচ্ছিল কোনো প্রাচীন দুর্গের খাঁজকাটা প্রাচীর।

জোছনা রাতে মেঘের দিকে তাকিয়ে আমার কল্পনায় এক পরির দেখা পেলাম। পরি আমাকে আকাশের ওপারের এক যমজ জগতে নিয়ে যেতে চাইল, যেখানে পৃথিবীর মানুষের বিপরীত যমজেরা থাকে। কিন্তু সেই জগতের নিয়ন্ত্রক আপত্তি জানালে পরির সঙ্গে তার লড়াই শুরু হয়। একপর্যায়ে পরি আমাকে ছেড়ে দিলে আমি দ্রুত নিচে পড়তে থাকি।

হঠাৎ ধপাস শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। বুঝতে পারি, দোলনায় নয়, ছাদের মেঝেতে পড়ে আছি। নিচ থেকে মা, কাকা ও অন্যরা ছুটে এসে হাসতে থাকেন। ব্যথায় কাতর হলেও আমি তখনও পরিটাকে খুঁজছিলাম; চারপাশের হাসি আমার কানে ঢুকছিল না।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট