
মিউজিয়াম ঘোরা শেষে লেখক সয়াবিন আইসক্রিম খেতে রাস্তার ওপারের একটি পার্লারে যান। সেখানে একজন কোরিয়ান মধ্যবয়স্ক নারী তাঁকে আইসক্রিম দেন। স্বাদ জানতে চাইলে তিনি ‘মাসিসসয়ো’ বলে জানান, যার অর্থ সুস্বাদু। মাইনাস ১ ডিগ্রি তাপমাত্রায় আইসক্রিমটি খেয়ে গাড়িতে ওঠেন তিনি; এরপর তাঁদের গন্তব্য ছিল চুসন ডাইনাস্টি।
চুসন ডাইনাস্টির পথে লেখক অডিওবুক শুনতে থাকেন। আধ ঘণ্টা পর সেখানে পৌঁছে তিনি প্রচণ্ড শীত অনুভব করেন, তবে পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন। প্রবেশের পর তাঁর চোখে পড়ে মানুষের অবয়বে তৈরি রঙিন কাঠের পুতুল। এরপর ফুটপাত ধরে হাঁটতে গিয়ে দেখতে পান শত শত হ্যানক—কোরিয়ানদের ঐতিহ্যবাহী বাড়ি।
হ্যানকগুলো পরিচ্ছন্ন ও সুসজ্জিত। কোথাও বাদ্যযন্ত্র বাজানো হচ্ছে, কোথাও মৃৎশিল্পের কাজ চলছে, আবার কোনো কোনো হ্যানকে কফি খাওয়ার ব্যবস্থা ও হোটেল রয়েছে। লেখার বর্ণনা অনুযায়ী, রাজাদের সময় এসব হ্যানক ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হতো—কোনোটিতে রাজা বা রাণী থাকতেন, কোনোটি রান্নাঘর, লাইব্রেরি, প্রার্থনাস্থল বা বৈঠকঘর হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
চুসন ডাইনাস্টিতে অনেককে হ্যানবক পরে ঘুরতে দেখা যায়। লেখক শীতের কারণে সেদিন হ্যানবক পরেননি। সেখানে তিনি বাঁশঝাড়ও দেখেন এবং জানতে পারেন, কোরিয়ান ভাষায় বাঁশকে ‘দেনামু’ বলা হয়। বাঁশঝাড়ে ছবি তোলার সময় স্পেন ও ইকুয়েডর থেকে আসা দুই দর্শনার্থীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং তিনি তাঁদের ছবি তুলে দেন।
একটি দুইতলা হ্যানক লাইব্রেরি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও সেটি এখন জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত। সেখানে মিনিয়েচার লাইব্রেরি, কাগজ তৈরির প্রক্রিয়ার নমুনা এবং বিভিন্ন সময়ের চারজন রাজার বর্ণনা দেওয়া বই রয়েছে। এরপর লেখক নকশা করা পাথরের রাস্তা, রান্নাঘর, রাজার বৈঠকঘর, ঢেঁকি ও পালকি দেখেন।
চুসন ডাইনাস্টি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি গাছের গোড়ায় রঙিন উলের সুতা দিয়ে তৈরি বুনন দেখতে পান। এতে পাথর, মুক্তা, ফুল, পাখি, লতা ও পাতার নকশা ব্যবহার করা হয়েছে।