
মতলব উত্তর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের আমিনপুর গ্রামে মাত্র ৭০০ ফুট রাস্তার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের পথ ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও মসজিদের মুসল্লিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনে জানা যায়, ১২ নম্বর ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমিনপুর গ্রামের ৯৮ নম্বর আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশ দিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ইউসুফ আলী প্রধানের বাড়ি থেকে পশ্চিম দিকে মরহুম মনসুর আহমেদ মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন মেইন রাস্তা পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের একটি নতুন রাস্তা নির্মাণ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় সুগম কোনো রাস্তা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে জমির আইলের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষা এলেই সেই পথ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত যেমন কষ্টকর হয়ে পড়ে, তেমনি এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলও ব্যাহত হয়।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষার সময় পানির কারণে অনেককে বাধ্য হয়ে কাদা ও পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পোশাক ও জুতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। মসজিদের মুসল্লিদেরও নামাজের সময় যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হয়।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, “রাস্তা না থাকায় বর্ষার সময় বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। পানি ও কাদার কারণে পোশাক-জুতা নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় ভিজে স্কুলে আসতে হয়। এখানে একটি ভালো রাস্তা নির্মাণ করা হলে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এলাকার সবার চলাচলে সুবিধা হবে।”
এলাকাবাসী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এখনো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাত্র ৭০০ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে। তাই জনস্বার্থে দ্রুত রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণ করা হলে আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে এবং বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে।