
স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার টানে ২৫ বছরের প্রবাসজীবনের ইতি টেনে ২০১৫ সালে দেশে ফিরেছিলেন আক্তার হোসেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে গড়ে তোলা ব্যবসা ছেড়ে অসুস্থ স্ত্রী হাজেরা বেগমের চিকিৎসায় পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় করেন তিনি। লিভার প্রতিস্থাপনের পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে বছরের পর বছর স্ত্রীর পাশে থাকলেও শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগের মধ্যে হাজেরা বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের সহায়তা চেয়েও তারা তাৎক্ষণিক সাড়া পাননি। ওই সময় চিকিৎসক মোবাইল ফোনে ব্যস্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। বিদ্যুৎ না থাকায় ওপরের তলায় যেতে না পারার অভিযোগও এসেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর রোগীর মৃত্যু হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।
তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে অভিযোগের পাশাপাশি তথ্য-প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। রোগীর মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসাগত জটিলতা কতটা দায়ী ছিল, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল কি না এবং ওই সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তে স্পষ্ট করার দাবি রয়েছে। অভিযোগ সত্য হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগের কোনো অংশ সত্য না হলে সেটিও স্বচ্ছভাবে জানানো প্রয়োজন।
হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহার জরুরি চিকিৎসাসেবায় বাধা সৃষ্টি করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্সের উপস্থিতি, জরুরি রোগীর দ্রুত মূল্যায়ন, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের জবাবদিহি এবং স্বজনদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
আক্তার হোসেনের পরিবারের জন্য এই মৃত্যু আরও বেদনাদায়ক। অর্থ, সময় ও নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও শেষ মুহূর্তে চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তিনি। হাজেরা বেগম আর ফিরে আসবেন না; তবে তার মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করা জরুরি।