
বললে অনেক কথাই বলা যায়—ভালো কথা, নীতিকথা কিংবা কথার কথা। কিন্তু ‘কিছু কথা না বললেই নয়’ লেখায় লেখক জানিয়েছেন, তিনি শুধু নিজের চোখে দেখা, সান্নিধ্যে পাওয়া এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ও কথোপকথনের মধ্য দিয়ে অনুভব করা বিষয়গুলোই তুলে ধরতে চান। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে ঘিরে তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
লেখক জানান, প্রায় এক যুগ আগে ২০১৩ সালে এই লেখার শুরু। ওই বছর অমর একুশে বইমেলায় তাঁর কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়। ২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় ‘কিছু কথা না বললেই নয়’ নামে তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে প্রবাসী বাঙালি সমাজের কাছ থেকে দেখা মানুষদের ঘিরেই লেখাটির মূল বিষয় তৈরি হয়েছে।
উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাঙালিদের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন ৪০তম ফোবানা সম্মেলন লস অ্যাঞ্জেলেসের হিলটন ইউনিভার্সেল হোটেলে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তবে লেখকের কাছে মঞ্চের আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে মঞ্চের বাইরের মন্ত্রীকে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।
সম্মেলনের বিভিন্ন আয়োজনে মন্ত্রীকে শিশুদের আর্ট প্রতিযোগিতা, রেড কার্পেট লাঞ্চ এবং খালেদ মহিউদ্দিনের টক শোতে অংশ নিতে দেখা যায়। প্রায় দুই ঘণ্টার টক শোতে তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে কথা বললেও তাঁর মধ্যে ক্লান্তির ছাপ দেখা যায়নি।
মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের নানা সমস্যা সমাধানে চারজন সচিবের নেতৃত্বে বিশেষ সেল কাজ করছে। ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ পাঠালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোতে প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার কথা বলেন।
লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মেলনের তিন দিনে চাকরি, পাসপোর্ট, দূতাবাস, জমিজমা এবং দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের হাতে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে অনেকে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি হোটেল থেকেই বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন।
এক পর্যায়ে বিশ্রামের জন্য সোফায় বসেও তিনি প্রবাসীদের সমস্যার কথা শোনেন। তাঁদের কেউ জায়গা-জমি, কেউ অর্থনৈতিক প্রতারণা, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের দখলদারিত্বের অভিযোগ নিয়ে আসেন। লেখক জানান, মন্ত্রী বিরক্ত না হয়ে তাঁদের কথা শুনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। একজন ডিসির সঙ্গেও তাঁকে কথা বলতে দেখা যায়।
লেখক মনে করেন, মন্ত্রীর এই আচরণ মঞ্চের দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়েও বেশি অর্থবহ। তাঁর মতে, সেখানে পদমর্যাদার দূরত্ব বা অহংকারের বদলে মানুষের কথা শোনার স্বাভাবিক আগ্রহ দেখা গেছে।
টক শো শেষে লেখক নিজের প্রকাশিত বইগুলো মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। মন্ত্রী আন্তরিকতার সঙ্গে বইগুলো গ্রহণ করেন। লেখকের কাছে এই সাক্ষাৎ একজন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার স্মৃতির চেয়ে একজন মানুষের সঙ্গে একজন প্রবাসী বাঙালির সহজ কথোপকথনের স্মৃতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।
লেখকের অভিমত, মন্ত্রী হওয়া বড় পরিচয় হলেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারা তার চেয়েও বড় পরিচয়। ফোবানা সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে গেলেও মন্ত্রীর প্রবাসীদের কথা মন দিয়ে শোনার দৃশ্যটি তাঁর স্মৃতিতে থেকে যাবে।