
চাঁদপুরে জুলাই বিপ্লবে শহীদ ১০ পরিবারের মাঝে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে শহরের নিউ ট্রাক রোড দারুস্সালাম ইসলামিক সেন্টার জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নগদ অর্থ শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলেদেন জেলা জামায়াতের নেতারা।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে এ সময় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।
তিনি বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে এ দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষ চেষ্টা করেছে দেশকে ফেসিবাদমুক্ত করার জন্য। প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলো চেষ্টা করে না পারলেও শেষ সময়ে ছাত্রদের সাথে জনতার অংশগ্রহনে আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত হয়েছে এবং হাসিনার শাসনের পতন হয়েছে।
তিনি বলেন, বিপ্লবের উদ্দেশ্যে ছিলো দেশের মানুষ সুন্দরভাবে বসবাস করবে এবং জুলাই বিপ্লবে শহীদ পরিবার মূল্যায়িত হবে। কিন্তু নির্বাচনের পরে বিএনপির আচরণে মনে হয়, জুলাই বলতে কিছুই হয়নি। তারা এই বিপ্লবকে স্বীকার করতে চায় না। নানা ধরণের কথা বলছে। সংবিধানে নেই। হাসিনা পালিয়েছে এটিও সংবিধানে নেই। মূলত এখন জনগণের সাথে প্রতারণা হচ্ছে। এদেশের ভবিষ্যত কী হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে আমরা চাইবে মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে।
এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গণমানুষের সংগঠন। মানবতার কল্যাণে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে। যারা শহীদ হয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয়তা পুরণ করার ক্ষমতা রাখে সরকার। কারণ জনগণের টাকা থাকে সরকারের কাছে। জামায়াতের কাছেত টেক্সের টাকা আসে না। আমাদের সংগঠনের সকলের সম্মিলিত ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় যা হয়, তা দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া, শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান।
সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আফসার উদ্দিন মিয়াজী, সদরের সাবেক আমির মো. নাছির উদ্দিন সহ জেলা, সদর ও শহর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই আন্দোলনে নিহত চাঁদপুর সদরের মো. সিয়াম সর্দার, আব্দুর রহমান দেওয়ান, আবুল হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, হাজীগঞ্জের আজাদ সরকার, কচুয়ার মো. হাসান, সামিউল আলম নুর, ফরিদগঞ্জের শাহাদাত হোসেন, মতলব দক্ষিণের গোলাম রাব্বি, মিজানুর রহমান মিলন তপদার, আব্দুল্লাহ আল তাহের, মতলব উত্তরের পারভেজ বেপারী ও সুজন খানের পরিবারকে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ১০হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়।