
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সভাপতিত্ব করেন।
সভায় জানানো হয়, নিষেধাজ্ঞার সময়ে মা ইলিশ সংরক্ষণে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে।
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অবৈধভাবে ধরা ইলিশের বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ৎ ও বাজারেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে বলেও সভায় জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মা ইলিশ রক্ষায় নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে চাঁদপুরের মেঘনা ও পদ্মার গুরুত্বপূর্ণ ইলিশ প্রজনন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।