নারায়ন রবিদাস: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাচনমেঘ গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধা ছালেহা বেগমের জীবনের শেষ দিনগুলো কাটছে চরম অবহেলা, অভাব-অনটন আর নিঃসঙ্গতায়। বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া এই নারীর ভাগ্যে জোটে না নিয়মিত খাবার; নেই মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ আশ্রয়ও। আপনজন থেকেও যেন নেই। ফলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোমতে খেয়ে-না খেয়ে দিন পার করছেন তিনি।
শারীরিক অসুস্থতা, তীব্র দুশ্চিন্তা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় রাতের ঘুমও হারাম হয়ে গেছে ছালেহা বেগমের। প্রিয়জন হারানোর স্মৃতি ও শারীরিক যন্ত্রণায় চরম উৎকণ্ঠায় কাটে তার প্রতিটি মুহূর্ত।
অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে বৃদ্ধা ছালেহা বেগম বলেন, “দীর্ঘ ৩০ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। তারপর থেকে আমাকে দেখার কেউ নেই। দুই ছেলে ও চার মেয়ে থাকলেও তারা খোঁজ নেয় না। অনেক বয়স হয়েছে, শরীর আর চলে না। পাড়া-প্রতিবেশীরা খাবার দিলে খাই, না দিলে অনাহারেই থাকতে হয়।” এ সময় জীবনধারণ ও চিকিৎসার জন্য সরকার এবং সমাজের দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আকুল আবেদন জানান তিনি।
সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে ছালেহা বেগম জানান, অনেক আগে তিনি বয়স্ক ভাতা পেতেন। কিন্তু ভাতার বইটি হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো সরকারি সহায়তা পাননি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের সাচনমেঘ গ্রামের সরদার বাড়ির মৃত ওয়াব আলী সরদারের স্ত্রী ছালেহা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একাকী হয়ে পড়া এই বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছে একটি জীর্ণশীর্ণ খুপরি ঘরে। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, একসময় ছালেহা বেগম অন্যের বাড়িতে গিয়ে হাত পেতে খাবার সংগ্রহ করতেন। কিন্তু বার্ধক্যের কারণে এখন আর দূরে যেতে পারেন না। অসুস্থ হয়ে পড়লে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনতে পারেন না তিনি।
প্রতিবেশী ফয়েজ আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ইউনিয়নে অনেক বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধি আছেন। তারা ইচ্ছা করলেই এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াতে পারতেন, কিন্তু কেউ কখনো সুদৃষ্টি দেননি। আমরা প্রতিবেশীরা যতটুকু পারি, দেখাশোনা করি।”
তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সহৃদয়বান ব্যক্তিদের প্রতি ছালেহা বেগমের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।