
স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন। নির্বাচনকে ঘিরে এখনই শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সমর্থন আদায়ের চেষ্টা। দলীয় মনোনয়ন কিংবা সমর্থন কে পাচ্ছেন এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা, হিসাব-নিকাশ ও জল্পনা-কল্পনা।
স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন,
রামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. তালিম হোসেন পাঠান,সদর থানা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম (নুরু মালানা),সদর থানা বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান জাকির তালুকদার, চাঁদপুর জেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মো. জসিমউদ্দিন পাটওয়ারী এবং চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু হানিফ কাকন।
তবে দলীয়ভাবে এখনো কারও প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রত্যেকেই দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রাখার কথা জানিয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ত্যাগ ও জনসম্পৃক্ততার বিষয় তুলে ধরছেন।তালিম হোসেন পাঠান : ত্যাগ ও জনসম্পৃক্ততার মূল্যায়ন চান রামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. তালিম হোসেন পাঠান দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি জানান, রাজনৈতিক জীবনে হামলা-মামলা, কারা নির্যাতন, হয়রানি ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন।
তিনি বলেন, রামপুরের মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় থেকেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ রয়েছে তার।
তালিম হোসেন পাঠান বলেন, দলের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ত্যাগ ও মানুষের পাশে থাকার বিষয়গুলো বিবেচনা করে দল আমাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে এটাই আমার প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আমি সবসময় শ্রদ্ধাশীল। সুযোগ পেলে রামপুর ইউনিয়নকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করব।
তিনি সদর থানা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সদস্য এবং চর বাকিলা বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
নুরু মালানা : জনগণের সেবাকে দেখছেন বড় দায়িত্ব হিসেবে সদর থানা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও রামপুর ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা মাওলানা নুরুল ইসলাম (নুরু মালানা) চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় আলোচনায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচন শুধু একটি পদে যাওয়ার প্রতিযোগিতা নয়; এটি জনগণের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া এবং ইউনিয়নবাসীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই একজন জনপ্রতিনিধির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
মাওলানা নুরুল ইসলাম কামরাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সভাপতি, কামরাঙ্গা জামে মসজিদ ও কামরাঙ্গা ঈদগাহ মাঠের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ধানের শীষের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে চাঁদপুর-৩ আসনের নেতা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাকে মূল্যায়ন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মাওলানা নুরুল ইসলাম।
জাকির তালুকদার : সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান
সদর থানা বিএনপি নেতা ও রামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির তালুকদারও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, রামপুর ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। অতীতেও সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন, ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকতে চান।
জাকির তালুকদার বলেন, বিগত দিনে রামপুর ইউনিয়নের মানুষের পাশে ছিলাম, আগামীতেও মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। রামপুরের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।দলীয় সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি কাজ করছেন বলেও জানান।
জসিমউদ্দিন পাটওয়ারী : আধুনিক ও জনবান্ধব রামপুর গড়ার প্রত্যয় চাঁদপুর জেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মো. জসিমউদ্দিন পাটওয়ারীও চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, রামপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মতামত ও সহযোগিতা নিয়ে একটি সুন্দর, বাসযোগ্য ও আধুনিক রামপুর গড়ে তুলতে চাই।
রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কৃষি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়াকে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান।
তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
মাওলানা জসিমউদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, তার বিগত দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে চাঁদপুর-৩ আসনের নেতা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মূল্যায়ন করবেন বলে তিনি আশাবাদী।
সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি রামপুর আদর্শ আলিম মাদ্রাসা ও বদরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক অনুমোদিত ইমাম-মুয়াজ্জেম কল্যাণ ট্রাস্টের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি এবং রামপুর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
আবু হানিফ কাকন : তরুণদের সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের স্বপ্ন চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু হানিফ কাকনও চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন।
তিনি বলেন, রামপুর ইউনিয়নকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছি। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তারপরও মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাকে শক্তি হিসেবে নিয়ে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় রয়েছি।
তিনি বলেন, রামপুরের দীর্ঘদিনের সমস্যা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থানসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চান। রামপুরকে একটি আধুনিক, সুন্দর ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই তার স্বপ্ন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত রয়েছেন আবু হানিফ কাকন। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ১ নম্বর সহসভাপতি, চাঁদপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ৫নং রামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। প্রত্যেক প্রার্থীই নিজেদের রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংগঠনিক ভূমিকা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয় তুলে ধরে দলীয় মূল্যায়নের প্রত্যাশা করছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত, তৃণমূলের মতামত এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এই তিনটি বিষয়ই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে রামপুরে বিএনপির সম্ভাব্য পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন পাচ্ছেন, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের।