
নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘প্রাণের শক্তি বাড়ায় বই, বই পড়ে মানুষ হই’—স্লোগানে ২০২৫ সালে যাত্রা শুরু করা প্যাপিরাস পাঠাগারের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুবসমাজকে বইমুখী করতে শিক্ষাবৃত্তি, স্কুলব্যাগ উপহার, সাহিত্য আড্ডা, কবি-সাহিত্যিকদের স্মরণ, পুরস্কার প্রদান ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে পাঠাগারটি। পাশাপাশি ‘লোরাম’ নামে একটি শিল্প-সাহিত্যের কাগজও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় চাঁদপুর শহরের চাঁদ টাওয়ারে পাঠাগার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাঠাগার পরিচালনায় উপদেষ্টা পরিষদসহ ১৯ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে।
নতুন কমিটিতে কবি রফিকুজ্জামান রণিকে সভাপতি, কবি আইরিন সুলতানা লিমাকে সাধারণ সম্পাদক এবং মিজানুর রহমান স্বপনকে পুনরায় প্রধান পরিচালক করা হয়েছে।
উপ-সভাপতি করা হয়েছে কামরুন্নাহার বিউটি, ফেরারী প্রিন্স ও জয়ন্তী ভৌমিককে। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা হলেন বেলাল শেখ, রাসেল ইব্রাহীম, ফরহাদ হোসেন, ফারহাদ হোসেন, ফারুক হোসেন, আলম বেপারী ও নাজমুল ইসলাম সজীব।
উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান কবির, মির্জা জাকির, মুহাম্মদ মাসুদ আলম, মাহমুদা খানম, আয়েশা আক্তার রুপা, দিলীপ ঘোষ ও দুখাই মুহাম্মাদ।
সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, বইয়ের আদি নিদর্শন বা প্রাথমিক রূপের প্রতি সম্মান জানিয়ে পাঠাগারের নাম প্যাপিরাস রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাচীনকালে সাইপেরাস প্রজাতির জলজ উদ্ভিদের পিথ থেকে তৈরি প্যাপিরাস লেখার পৃষ্ঠা হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
সাধারণ সম্পাদক আইরিন সুলতানা লিমা জানান, খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকে নীলনদের তীরে উৎপন্ন প্যাপিরাস গাছের বাকল মিসরীয়রা লেখার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। পরে প্যাপিরাসে ছবি আঁকার প্রচলন হয় এবং এই শব্দ থেকেই ‘পেপার’ শব্দের উৎপত্তি ঘটে বলে তিনি জানান।
লিমা বলেন, পাঠাগারে এসে বই, পত্রিকা ও ম্যাগাজিন পড়ে সমাজের একজন মানুষও আলোকিত হলে তাঁদের পরিশ্রম সার্থক হবে।