
মুখে হাসি, বুকের ভেতর
হাজার দুঃখের ঢেউ,
মধ্যবিত্তের গল্পগুলো
কেউ বোঝে না, কেউ।
ছোট্ট ঘরে বড় বড় স্বপ্ন,
চাহিদা থাকে কম,
হিসাব কষে মাসের শেষে
হয় যে জীবন থম।
বাজারভর্তি রঙিন পণ্য,
দামগুলো সব আগুন,
পকেট দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে
মধ্যবিত্তের মন।
ছেলের বই, মেয়ের খাতা,
বাবার ওষুধ লাগে,
মায়ের শাড়ি কেনার কথা
মাসের শেষে জাগে।
বিদ্যুতের বিল, ঘরভাড়া আর
কিস্তির বোঝা কাঁধে,
নিজের ইচ্ছে চাপা দিয়ে
চলে সে নীরব সাধে।
না পারে হাত পাততে কারও,
না পারে সুখে ভাসতে,
অভাবগুলো লুকিয়ে রাখে
হাসির মুখোশ হাসতে।
ঈদের দিনে নতুন পোশাক
সবার আগে সন্তানের,
নিজের জন্য পুরোনো জামাই
যথেষ্ট হয় বারবার।
স্বপ্নগুলো আলমারিতে
ভাঁজ করে রাখা থাকে,
দায়িত্ব নামের বিশাল পাহাড়
প্রতিদিনই ডাকে।
তবু ভোরে উঠে মানুষটি
ছোটে জীবিকার টানে,
ভাঙা মনেও আশা বুনে
আগামী দিনের গানে।
হে মধ্যবিত্ত, তোমার জীবন
নীরব যুদ্ধের নাম—
কান্নাগুলো বালিশ জানে,
জানে শুধু ঘরের ঘাম।
একদিন হয়তো হিসাব মিলবে,
ফুরোবে দুঃখের রাত—
আজকের এই চাপা কান্নাই
হবে আগামী প্রভাত।
মুখে হাসি, চোখে স্বপ্ন,
বুকে জমে শত ক্ষত—
এই তো জীবন, এই তো গল্প—
নীরব এক মধ্যবিত্ত।