
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের মতো চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নেও সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। চায়ের আড্ডা, হাট-বাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক পরিসরে আগামী দিনে মৈশাদী ইউনিয়নের নেতৃত্বে কাকে দেখতে চান তা নিয়ে চলছে নানা মতামত ও আলোচনা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সবসময় জনগণের পাশে থাকবেন। মানুষের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন।
এমন আলোচনায় সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর নাম গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে জনসম্পৃক্ততা, মানবিক কর্মকাণ্ড, ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
জনসম্পৃক্ততায় আস্থার দাবি সমর্থকদের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ও তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন।
মামলা-মোকদ্দমা ও কারাবন্দিত্বের মতো সংকটময় সময়ে নেতা-কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতা করেছেন। বিপদগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাহস জুগিয়েছেন বলেও তাঁরা জানান।
‘ডিজিটাল চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি
সাবেক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন নাগরিক সেবা চালু ও সম্প্রসারণের কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ডিজিটাল চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি পান।
সমর্থকদের দাবি, তাঁর সময়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয় এবং নাগরিকরা সহজে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সুযোগ পান।
করোনাকালে মানুষের পাশে থাকার দাবি
২০২০ সালের করোনা মহামারির ভয়াবহ সময়ে মৈশাদী ইউনিয়নের মানুষও চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন।
সে সময় মানিক পাটোয়ারী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকেরা জানান।তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’ চালু করে খাদ্যসামগ্রী মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার উদ্যোগও নেওয়া হয়। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর সমর্থকদের অনেকে তাঁকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সামাজিক নিরাপত্তায় ভূমিকার দাবি
সমর্থকদের দাবি, তাঁর দায়িত্বকালে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হয়। মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি ও জেলে কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বৃদ্ধিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে তাঁরা জানান।ভাতা বিতরণে অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থানে ছিলেন বলেও সমর্থকদের দাবি।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও গুরুত্ব
মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক পাকাকরণ, পুরোনো রাস্তা সংস্কার, ব্রিজ-কালভার্ট ও ঘাটলা নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর সময়ে বিভিন্ন কাজ হয়েছে বলে সমর্থকদের দাবি।
পাশাপাশি স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে তাঁরা জানান।
সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকার দাবি
বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং, মাদক ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি।
সব মিলিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের আগামী দিনের নেতৃত্ব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনায় সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর নাম সামনে আসছে। তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা, অতীতের অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি আবারও দায়িত্ব পেলে ইউনিয়নের নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
তবে শেষ পর্যন্ত মৈশাদী ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত দেবেন ভোটাররাই। স্থানীয়দের প্রত্যাশা যিনিই নেতৃত্বে আসুন, তিনি জনগণের পাশে থেকে মৈশাদী ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণে কাজ করবেন।