
কচুয়া প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৭নং সদর দক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য ৬ প্রার্থী ব্যাপক প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রার্থীরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং নিজেদের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভাবনার কথা তুলে ধরছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে প্রার্থীদের মধ্যে চলছে জোর প্রচেষ্টা।
প্রার্থীদের প্রচারণায় সন্ত্রাস, মাদক ও সামাজিক অপরাধমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং তরুণ সমাজকে বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা।
৭ নং সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা হলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক দুইবারের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান পাঠান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মিয়াজী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুস ছালাম শান্ত, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি খন্দকার মো. তাওহীদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কামরুল হাসান এবং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন মাস্টার।
কচুয়া উজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭ নম্বর সদর দক্ষিণ ইউনিয়ন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত ইউনিয়ন হিসেবে বিবেচিত। এ ইউনিয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন, তিনি দল-মত ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এমন একজন চেয়ারম্যান চান, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, বরং মানুষের সুখে-দুঃখে নিয়মিত পাশে থাকবেন। অসহায় মানুষের সহযোগিতা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং ইউনিয়নের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এমন নেতৃত্বই প্রত্যাশা করছেন ভোটাররা।
স্থানীয় কয়েকজন ভোটার বলেন, নির্বাচনের সময় অনেকেই নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের সঙ্গে কতটা যোগাযোগ রাখবেন এবং এলাকার সমস্যাগুলো কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করবেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তাই তারা এমন প্রার্থীকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান, যিনি জনগণের কাছে থাকবেন, মানুষের কথা শুনবেন এবং বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াবেন।