1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - : AADI BANGLA
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান মনোনয়নপ্রার্থী কাজী জাকির হোসেন শাহমাহমুদপুরে শিক্ষক শাহনেওয়াজ খানের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা শাহরাস্তিতে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ওয়াকওয়েতে আড্ডা, আটক ১৬ শিক্ষার্থী বাবুরহাট কলেজে মকবুল-রাজিয়া ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান চাঁদপুর ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলের উন্নয়নে সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেব: শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি চাঁদপুর জেলা পরিষদ পরিদর্শনে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি চাঁদপুরে কোস্টগার্ডের অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৫২ জেলে চাঁদপুরে মাদকসহ গ্রেফতার ১১, কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক ৭৬ চাঁদপুরে ৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ জেলের বিরুদ্ধে মামলা ফরিদগঞ্জে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

‘সাব্বু আলী’: ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে
‘সাব্বু আলী’: ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়

উমাইয়া যুগে হযরত আলী (রা.)-কে প্রকাশ্যে নিন্দা এবং খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-এর তা বন্ধ করার উদ্যোগ ইসলামের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক ও শিক্ষণীয় অধ্যায়। ইসলামের ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরাম ও আহলে বাইতে রাসুল (সা.)-এর মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে তাঁদের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, উমাইয়া শাসনামলে মসজিদের খুতবা ও জনসমক্ষে হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে নিন্দা বা গালমন্দ করার একটি রেওয়াজ চালু ছিল। ৪১ হিজরি থেকে ৯৯ হিজরি পর্যন্ত প্রায় ছয় দশক এই প্রচলন থাকার কথা বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ আছে। ইতিহাসের প্রাচীন সূত্রে এ ঘটনাকে ‘সাব্বু আলী’ বলা হয়েছে।

হযরত আলী (রা.)-এর মর্যাদা

হযরত আলী (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাচাতো ভাই, জামাতা এবং আহলে বাইতের অন্যতম প্রধান সদস্য। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে মূসা (আ.)-এর কাছে হারুন (আ.)-এর মর্যাদার সঙ্গে তুলনা করেছেন; তবে তাঁর পরে কোনো নবী নেই। একই সূত্রে খায়বারের দিনে আলী (রা.)-এর হাতে পতাকা দেওয়া এবং মুবাহালার সময় আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রা.)-কে আহলে বাইত হিসেবে কাছে নেওয়ার বর্ণনাও রয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর শাহাদাতের পর মুসলিম সমাজে গভীর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.)-এর মধ্যে সংঘাত এবং ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পরে ৪০ হিজরি/৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে হযরত আলী (রা.) কুফার মসজিদে খারিজি ইবনে মুলজামের আঘাতে শাহাদাতবরণ করেন। ৪১ হিজরিতে হযরত হাসান ইবনে আলী (রা.)-এর সঙ্গে সমঝোতার পর মুয়াবিয়া (রা.) একক রাজনৈতিক কর্তৃত্ব লাভ করেন এবং উমাইয়া শাসনের নতুন পর্যায় শুরু হয়।

সহিহ মুসলিমে আমির ইবনে সা‘দ তাঁর পিতা সা‘দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর সূত্রে মুয়াবিয়া (রা.) ও সা‘দ (রা.)-এর একটি কথোপকথন বর্ণনা করেছেন। সেখানে আলী (রা.)-কে গালি না দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয় বলে উল্লেখ আছে। সা‘দ (রা.) উত্তরে আলী (রা.)-এর তিনটি বিশেষ মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এই হাদিস থেকে এমন একটি কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া যায়; তবে এর ভিত্তিতে সমগ্র উমাইয়া সাম্রাজ্যে একই রাষ্ট্রীয় নীতি চালু ছিল—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে অন্যান্য ঐতিহাসিক বর্ণনাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আল-তাবারি, ইবনুল আসির, ইবনে কাসিরসহ প্রাচীন ইতিহাসগ্রন্থে উমাইয়া আমলে আলী (রা.)-এর প্রকাশ্য নিন্দার বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। এসব বর্ণনার সবগুলোর হাদিস-শাস্ত্রীয় মান এক নয়। তাই এগুলোকে ইতিহাসগ্রন্থে সংরক্ষিত বর্ণনা হিসেবে উপস্থাপন করাই সতর্ক পদ্ধতি।

উমর ইবনে আবদুল আজিজের উদ্যোগ

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ৯৯ হিজরি/৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) খলিফা হওয়ার পর আলী (রা.)-এর বিরুদ্ধে প্রচলিত নিন্দা বন্ধের উদ্যোগ নেন। তিনি বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নর ও কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে নির্দেশ পাঠান। খুতবার শেষে প্রচলিত নিন্দার পরিবর্তে সূরা আন-নাহলের ৯০ নম্বর আয়াত পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়। আয়াতটিতে ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দানের নির্দেশ এবং অশ্লীলতা, অসৎকর্ম ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা

এই অধ্যায়কে কোনো ব্যক্তি বা বংশের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর উপকরণ না বানিয়ে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব যখন ধর্মীয় ভাষা ও মসজিদের মিম্বরকে রাজনৈতিক বিরোধিতার হাতিয়ারে পরিণত করে, তখন তার পরিণতি ক্ষতিকর হতে পারে। সাহাবায়ে কেরাম ও আহলে বাইতের মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়, শিষ্টাচার এবং উম্মাহর ঐক্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই করণীয়।

সাহাবা, আহলে বাইত বা কোনো মুসলিমের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর জবাব গালাগালি দিয়ে না দিয়ে কুরআন-সুন্নাহর আদব, প্রমাণিত ইতিহাস ও উত্তম ভাষার মাধ্যমে দেওয়া উচিত।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট