
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার নয়ারহাট বাজার এলাকায় গোল্ডেন বার্ড মডেল একাডেমি নামে একটি কিন্ডারগার্টেনের সামনের চলাচলের পথ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলাম কালাম মাস্টার। দ্রুত চলাচলের পথ খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার নয়ারহাট বাজারের পশ্চিম মাথায় সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত একটি জমি ১০ বছরের জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকায় লিজ নেওয়া হয়। লিজের টাকা পরিশোধের পর ওই জমিতে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে গোল্ডেন বার্ড মডেল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, জমির লিজদাতা ৯ নম্বর গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চর মথুরা গ্রামের বড়বাড়ির মোবারক আলী ও তাঁর ছেলে মেহেদী হাসান টাকা গ্রহণ করলেও জমিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে মেহেদী হাসান প্রবাসে চলে যান। এরই মধ্যে কয়েক মাস আগে বিদ্যালয়ের সামনের চলাচলের পথ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথ ব্যবহারের জন্য এককালীন ৩০ হাজার টাকা এবং মাসিক ২ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের পরও চলাচলের পথটি পুনরায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সমস্যার সমাধান না হয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।
এদিকে, ভূমির মালিক মেহেদী হাসান ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে চলাচলের রাস্তা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁরা রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও তার প্রভাব কেন পড়বে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও যাতায়াতের ওপর? জমির মালিকানা বা চলাচলের অধিকার নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করাই সমীচীন। কিন্তু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়লে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখা জরুরি।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলাম কালাম মাস্টার বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। চলাচলের পথ বন্ধ থাকলে শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া ব্যাহত হবে, যা তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিরোধের আইনসম্মত সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, জমি নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ভবে পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা তাদের।