
এমরান হোসেন রাজন – স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে আলোচনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার, সামাজিক পরিসর কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গন সবখানেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কী, তিনি কীভাবে জনগণের পাশে থাকবেন এবং ইউনিয়নের উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবেন এসব বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
মৈশাদী ইউনিয়নের একজন বাসিন্দার দৃষ্টিতে, জনপ্রতিনিধি এমন হওয়া প্রয়োজন, যিনি জনগণের কথা শুনবেন, তাদের সমস্যা বুঝবেন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকবেন। অতীতের কাজ ও ভূমিকার আলোকে এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর নামও আলোচনায় আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অতীতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ রাখতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়েও বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার কথাও তাঁর সমর্থকেরা উল্লেখ করেন।
মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের দাবি, তাঁর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সময়ে মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল সেবার প্রসার ঘটে। অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন নাগরিক সেবা চালু ও সম্প্রসারণের কারণে ইউনিয়ন পরিষদটি স্থানীয়ভাবে ‘ডিজিটাল ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিচিতি পায় বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হলে মৈশাদী ইউনিয়নেও এর প্রভাব পড়ে। এ সময়ে মানিক পাটোয়ারী ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন বলে তাঁর সমর্থকেরা জানান।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ফ্রি চিকিৎসাসেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথাও তাঁর সমর্থকেরা উল্লেখ করেন। মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি ও জেলে কার্ডের আওতা বৃদ্ধির বিষয়টিও তাঁরা তাঁর দায়িত্বকালীন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
ভাতা বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে তিনি কঠোর অবস্থান নিতেন এবং কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতেন বলেও তাঁর সমর্থকেরা দাবি করেন।
মানিক পাটোয়ারীর দায়িত্ব পালনের সময়ে বিভিন্ন কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, পুরোনো রাস্তা সংস্কার, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং ঘাটলা তৈরির মতো অবকাঠামোগত কাজ হয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।
একই সময়ে স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর সমর্থকেরা উল্লেখ করেন।
বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধ, মাদক ও জঙ্গিবাদের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও তাঁর সমর্থকেরা দাবি করেন। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
একজন জনপ্রতিনিধির মূল্যায়ন শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়; তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা, সততা, জবাবদিহিতা এবং উন্নয়নমূলক কাজের বাস্তব ফলাফল দিয়েই হওয়া উচিত। একই সঙ্গে যেকোনো প্রার্থী সম্পর্কে করা দাবিগুলো যাচাই করা এবং জনগণের সামনে তথ্যভিত্তিকভাবে উপস্থাপন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
মৈশাদী ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণ কেমন নেতৃত্ব চান শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত জনগণেরই। তাই অতীতের কাজের মূল্যায়ন, বর্তমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করেই একজন জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।