
সম্প্রতি ইসির স্থানীয় সরকার আইন ও বিধি সংশোধনের এ প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ইসির প্রস্তাবে হলফনামায় নতুন তথ্য সংযুক্ত করা, অসত্য তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করলে প্রার্থিতা বাতিল, দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মালিক বা অংশীদারদের নির্বাচনে অযোগ্য করার মতো বেশ কিছু বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনি অপরাধের শাস্তি বাড়ানোর বিষয়টিও সংশোধনী প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে কেউ অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। একইভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চাকরিতে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
এ ছাড়া ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা হয়েছে, তাদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে।
হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া বা তথ্য গোপন করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে ইসি। তবে হলফনামার তথ্য কী প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে, সে বিষয়ে প্রস্তাবে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনি অপরাধের শাস্তি বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নির্বাচনি অপরাধে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।
নির্বাচনের সময়সীমা নিয়েও নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে স্থানীয় সরকার পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। কোনো কারণে ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব না হলে নির্বাচন কমিশন সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচন আয়োজন করবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রথম ধাপে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলার ইউনিয়ন পরিষদকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
শিগগিরই কমিশন সভায় কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের আইন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধি সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত আইন ও বিধির সংশোধন সংসদে পাস হতে হবে। তবে চলতি অধিবেশনে এসব সংশোধনী সংসদে ওঠার সম্ভাবনা কম। সংশোধনী পাস না হলে বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।