
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে শহরের মুনিরা ভবনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১ হাজার ২২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে সদর ও হাইমচর উপজেলায় ৫৫৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং ৯২ শতাংশ উপস্থিত রয়েছে। শিক্ষা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ধর্মচর্চায়ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। লেখাপড়ার জন্য চাঁদপুরকে ওয়ান স্টপ সার্ভিস হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ালেখা ছাড়া উচ্চশিক্ষার প্রায় সব সুযোগ-সুবিধাই চাঁদপুরে রয়েছে। চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ, হাইমচর কলেজসহ সকল কলেজের শিক্ষার মান এক করা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে সরকার ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ করেছে। ইতোমধ্যে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের আটটি সেশনের শিক্ষার্থীরা বের হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, তোমরা দেশ পরিবর্তনে অংশ নেবে এবং সুন্দর চাঁদপুর বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে। আগামীতে বিসিএস কর্মকর্তা ও ডাক্তারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদপুরের সন্তানরা এগিয়ে যাবে। তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।
এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ দৃশ্যমান হবে। মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। মাদকের বিষয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিতে হবে অথবা প্রয়োজনে ছবি ও ভিডিও করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠাতে হবে। চাঁদপুরে মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ভূমিদখলদারদের কোনো জায়গা হবে না।
তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রথম ধাপে ৫০ জন গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা হবে। কোনো শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ করা যাবে না। একটি সুন্দর চাঁদপুর বিনির্মাণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করছে। সবাইকে মশারির নিচে ঘুমাতে হবে এবং বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
বালু উত্তোলন ও ভরাটের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বালু কাটা বা ভরাট করা যাবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রয়োজনে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থী দুটি করে গাছ লাগাবে এবং সেই গাছ লাগানোর ছবি আমাদের কাছে পাঠাবে। ছবিগুলো আর্কাইভ করে রাখা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমাদের নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করলে তোমরা নিজেদের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, ক্লাসের কোনো বিকল্প নেই। প্রাইভেট পড়ার অজুহাতে ক্লাস বর্জন করা যাবে না। মোবাইল শিক্ষার কাজে ব্যবহার করা ছাড়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার করা যাবে না। ফেসবুক-মেসেঞ্জারে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে জীবনকে পিছিয়ে ফেলতে হবে। এগুলো বর্জন করে লেখাপড়ায় মনোযোগী হলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও অধ্যবসায়ই তাদের লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক স্বপ্নদ্রষ্টা। শিক্ষকদের মেধাশূন্য হওয়া যাবে না। একজন শিক্ষককে স্মার্ট শিক্ষক হতে হবে। শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে ক্লাস নিলে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব। শিক্ষকদের আন্তরিকতায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করবেই।
চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. হারুনুর রশিদ, চান্দ্রা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক এ.টি.এম. মোস্তফা, লেডি প্রতিমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা ইসলাম এবং হাইমচর বাজাপ্তি রমণী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান।
কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জোছনা আক্তার মমতাজ, রতন কুমার বাইন ও রাশেদুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জান্নাতুল মাইশা, চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ফাহিম আফরান খান, চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেহজাবিন ইসলাম, চাঁদপুর ড্যাফোডিল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাজবীর হান্নান, নীলকমল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ফারিহা এবং হাইমচর চরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহজাবিন ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম মাহিন এবং গীতা পাঠ করেন অপরাজিতা।
আলোচনা সভার শেষে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৭১ জন মেধাবী ও কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।