
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল কোনো আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে একটি নির্দিষ্ট অবস্থান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো মানসম্মত শিক্ষা, বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ ও মানবিক মানবসম্পদ তৈরি এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখা। সেই বিবেচনায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশনের ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং ২০২৭’-এ ৩৮.৪২ ওয়েটেড স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম হয়েছে ডিআইইউ। বৈশ্বিক তালিকায় ৮০১-১০০০ ব্যান্ডে অবস্থানের পাশাপাশি ‘গবেষণার মান’ সূচকে বিশ্বে ২৯৪তম স্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ড. মো. সবুর খান প্রতিষ্ঠিত ড্যাফোডিলের এই অর্জন প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি চাঁদপুরবাসীর জন্যও আনন্দ ও গর্বের বলে বিবেচিত হয়েছে। বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরে অবস্থান তৈরি করতে পারে, ডিআইইউর অগ্রযাত্রা তার একটি দৃষ্টান্ত।
তবে অর্জনের সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ে। র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান অর্জনের পর তা ধরে রাখা এবং আরও এগিয়ে যাওয়া ডিআইইউর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সাফল্যকে আত্মতুষ্টির কারণ না বানিয়ে ভবিষ্যতের উৎকর্ষের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
গবেষণার মান ও পরিধি বাড়ানো, শিক্ষার পরিবেশ সমৃদ্ধ করা, শিক্ষকতার উৎকর্ষ নিশ্চিত করা, মেধাবী গবেষক ও শিক্ষক তৈরি, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনের সঙ্গে শিক্ষাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, দক্ষ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও জরুরি।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের সাসটেইনেবিলিটি ইমপ্যাক্ট র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের শীর্ষস্থান অর্জনসহ ডিআইইউর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উদ্যোগের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগের ইঙ্গিত দেয়। তবে র্যাংকিং চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; এর সুফল শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, গবেষণার ফলাফল, দেশীয় সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান এবং সামাজিক উন্নয়নে দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।
ডিআইইউর সামনে এখন অর্জনের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং মানের প্রশ্নে কোনো আপস না করার দায়িত্ব। স্বচ্ছতা, একাডেমিক সততা, গবেষণার স্বাধীনতা, মেধার মূল্যায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হতে পারে সেই পথের ভিত্তি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি যেন সাময়িক সাফল্যে থেমে না যায়; বরং মান, গবেষণা, উদ্ভাবন, সততা ও দায়িত্বশীলতার ওপর দাঁড়িয়ে তা দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই উৎকর্ষে রূপ নিক।