
নিজস্ব প্রতিনিধি: চাঁদপুরে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে গ্যাস সংকট। গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় জেলার অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। চালু থাকা মাত্র দুটি স্টেশনে জ্বালানি নিতে গ্যাসচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে যাত্রীসেবা, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরাও।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকার শারমিন ফিলিং স্টেশনে সিএনজি অটোরিকশা, বাস ও মাইক্রোবাসের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। স্টেশনের আশপাশের সড়ক ছাড়িয়ে যানবাহনের লাইন কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়ক পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং অন্যান্য যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।
হাজীগঞ্জ থেকে গ্যাস নিতে আসা এক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানান, জ্বালানির জন্য তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। স্থানীয় এলাকার পাশাপাশি ফরিদগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকা থেকেও চালকেরা সেখানে গ্যাস নিতে আসছেন। এতে একটি ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের জটলা তৈরি হয়েছে।
গ্যাসচালিত বাস ও মাইক্রোবাসকেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। চাঁদপুর থেকে চলাচলকারী জৈনপুর পরিবহন, জৈনপুর এক্সপ্রেস ও মতলব এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন বাস জ্বালানি সংকটে পড়েছে। এক বাসচালক বলেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পুরো পরিবহন খাত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে থাকায় তাদের দৈনিক আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে পথচারী ও স্বাভাবিক যান চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শহরের বাসাবাড়িতে। বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের দাবি, লাইনে গ্যাসের চাপ খুবই কম থাকায় দিনে বা রাতে কোনো সময়েই ঠিকমতো চুলা জ্বলছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে হোটেল থেকে বেশি দামে খাবার কিনে খাচ্ছেন, এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন খরচ বেড়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, জিটিসিএল-এর মাধ্যমে বিজরা থেকে ফ্লো নিয়ন্ত্রণ করে বর্তমানে ঘণ্টায় ১৮-২০ এমএমএসসিএফডি হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এই সরবরাহ দিয়েই ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র সর্বনিম্ন ৩০-৩৫ মেগাওয়াট লোডে সচল রাখা হয়েছে।
বাখরাবাদ সূত্র আরও জানায়, মূল জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় পুরো চাঁদপুর অঞ্চলে স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। মূল লাইন থেকে সরবরাহ না বাড়ানো পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।