
নিজস্ব প্রতিনিধি: ফরিদগঞ্জে গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে একটি প্রবাসীর পরিবার। আগুনে একমাত্র বসতঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় দুই অবুঝ শিশুকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন পপি বেগম নামে এক গৃহবধূ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধানুয়া গ্রামের খাসের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে পপি বেগমের স্বামী মো. রিয়াদ হোসেন সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি অবৈধভাবে অবস্থান করায় নির্দিষ্ট কাজ বা উপার্জন করতে পারছেন না বলে জানা গেছে। দেশে ধারদেনা করে দুই সন্তানের থাকার জন্য একটি ছোট ঘর নির্মাণ করেছিলেন পপি বেগম। ৭ বছরের মেয়ে ফাতেমা আক্তার স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবং ৩ বছরের ছেলে ফারাজ খানকে নিয়ে সীমিত আয়েই চলছিল তাদের সংসার।
পপি বেগম জানান, রাতে সন্তানদের খাইয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর আগুনের তাপে তাঁর ঘুম ভাঙে। চারদিকে আগুন দেখে সন্তানদের নিয়ে পরনের এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হয়ে তিনি চিৎকার করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও প্রতিবেশীরা আগুন নেভালেও ঘরের কোনো মালামাল রক্ষা করা যায়নি।
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. কামরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগেই কাঠের ঘর ও ভেতরের মালামাল পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, পরিবারটি অসহায় ও দরিদ্র। ঘর পুড়ে যাওয়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে আছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আপাতত প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন সাপেক্ষে পুনর্বাসনের বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।