1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - : AADI BANGLA
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান মনোনয়নপ্রার্থী কাজী জাকির হোসেন শাহমাহমুদপুরে শিক্ষক শাহনেওয়াজ খানের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা শাহরাস্তিতে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ওয়াকওয়েতে আড্ডা, আটক ১৬ শিক্ষার্থী বাবুরহাট কলেজে মকবুল-রাজিয়া ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান চাঁদপুর ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলের উন্নয়নে সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেব: শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি চাঁদপুর জেলা পরিষদ পরিদর্শনে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি চাঁদপুরে কোস্টগার্ডের অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৫২ জেলে চাঁদপুরে মাদকসহ গ্রেফতার ১১, কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক ৭৬ চাঁদপুরে ৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ জেলের বিরুদ্ধে মামলা ফরিদগঞ্জে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

চাঁদপুরের নদী-খালে দেশীয় মাছ ধ্বংসের দুই ফাঁদ

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ চাঁদপুরের চার নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার ও স্বাভাবিক জীববৈচিত্র এখন হুমকির মুখে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিষিদ্ধ কারেন্টজাল ও চায়না দুয়ারী জালের অবাধ ব্যবহার। এসব জালে রেণু-পোনা থেকে শুরু করে ছোট-বড় প্রায় সব ধরনের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী আটকা পড়ছে। এতে জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে লাভবান হলেও দীর্ঘমেয়াদে নদী-খালে মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ও জীববৈচিত্র বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

মৎস্য বৈজ্ঞানিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন দশক আগে চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কারেন্টজালের ব্যবহার শুরু হয়। অত্যন্ত সূক্ষ্ম সুতায় তৈরি এ জালের ফাঁক এত ছোট যে রেণু-পোনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আকারের মাছ নির্বিচারে আটকা পড়ে। একই সঙ্গে অন্যান্য জলজ প্রাণীও এ জালের শিকার হয়। ফলে মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গত কয়েক বছর ধরে চাঁদপুরের নদী, খাল ও বিলে নতুন করে বিস্তার ঘটেছে চায়না দুয়ারী জালের। লম্বা টিউবের মতো দেখতে এ ফাঁদ প্লাস্টিক বা নাইলনের রিং এবং সূক্ষ্ম জালের সুতা দিয়ে তৈরি। এর একাধিক মুখ বা ‘দুয়ার’ থাকায় মাছ একবার ভেতরে ঢুকলে সহজে বের হতে পারে না। ফলে একই সঙ্গে ছোট-বড় মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী এতে আটকা পড়ে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের জেলে মো. ইউসুফ প্রধান বলেন, অধিকাংশ জেলেই কারেন্টজাল ব্যবহার করেন। তবে বড় ফাঁদের জাল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নেই। ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার সব সময়ই নিষিদ্ধ। তাঁর দাবি, প্রতি বছর চাঁদপুরে কয়েক কোটি টাকার কারেন্টজাল ব্যবহার করেন জেলেরা।

তিনি বলেন, প্রকৃত জেলেরা সাধারণত চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করেন না। মৌসুমি কিছু জেলে এসব জাল ব্যবহার করেন। এমনকি অনেকে বাড়ির আশপাশের মাঠ ও জলাশয়েও এসব ফাঁদ পেতে মাছ ধরেন।

সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের জেলে ইসমাইল দেওয়ান বলেন, তাঁদের জেলে পাড়ার অধিকাংশ মানুষ নদীতে ইলিশ ধরেন এবং চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করেন না। অল্প কিছু মানুষ এ ধরনের জাল ব্যবহার করেন। তাঁদের সচেতন করা জরুরি। কারণ এসব জালে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণীও ধ্বংস হচ্ছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, কারেন্টজালের বিরুদ্ধে সারা বছরই অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি চায়না দুয়ারী জালও জব্দ করে ধ্বংস করা হচ্ছে। তবে এসব জাল নদীতে পেতে জেলেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় অনেক সময় তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, শুধু অভিযান ও জাল ধ্বংস করলেই হবে না; এসব জালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেলেদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের প্রাপ্যতার পাশাপাশি দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছও কমেছে। এর অন্যতম কারণ সূক্ষ্ম ফাঁসের কারেন্টজালের ব্যবহার। নদীতে এ জাল পেতে রাখলে কোনো মাছই এর বাধা এড়িয়ে যেতে পারে না। চায়না দুয়ারী জালও একইভাবে মাছ ধ্বংসকারী একটি ফাঁদ।

তাঁর মতে, এসব ক্ষতিকর জালের ব্যবহার দ্রুত বন্ধ করতে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শুধু জেলেদের নয়, জলাশয় ব্যবহারকারী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

চাঁদপুরের নদী-খাল-বিলের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে দেশীয় মাছের অস্তিত্বও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সাময়িক লাভের জন্য নির্বিচারে মাছ আহরণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নদী-খালে মাছের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট