1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - :
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মতলবে ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির মাদকবিরোধী সভা  ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর রক্তিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন! কচুয়ার সদর দক্ষিণে ভোটের হাওয়া, মাঠে ৬ চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপিএইচসিডি’র কেন্দ্রীয় ২১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন জি এম শাহীন কোন শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না – ইউএনও মনিরা খাতুন। কচুয়ার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন গ্রেফতার এআই-এর অপব্যবহার : সম্ভাবনার বিপরীতে এক অন্ধকার বাস্তবতা   হাইমচর-চাঁদপুর বিকল্প সড়কের কাজ দ্রুত শুরু হবে: শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক পাইকদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ও সাংস্কৃতিক পুরস্কার বিতরণ

মতলব উত্তরে লাইসেন্স ছাড়াই হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক, হরহামেশাই চলছে সিজার

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯১ বার পড়া হয়েছে

মতলব উত্তর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই একের পর এক গড়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশনও করা হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ ভুল চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, মতলব উত্তরে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৬টি। এর মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাকি ১০টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও অবস্থান সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কোনো তথ্য নেই বলেও জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছেংগারচর বাজার, ফরাজীকান্দিসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। ছেংগারচর বাজারের পালস এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বারিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডা. কর্নার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ফরাজীকান্দির মোহাম্মদিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মোহনপুর ডিজিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিফাস্ট মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, মুন মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খাজা গরিব নেওয়াজ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফয়েজ মেমোরিয়াল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সুজাতাপুর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইসলামীয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নিউ পপুলার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও অনুমোদন পাওয়ার আগেই চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, রিপোর্ট প্রদানকারী জনবল ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ প্রয়োজনীয় জনবল থাকা বাধ্যতামূলক। ক্লিনিক বা হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবস্থাও থাকতে হয়। পাশাপাশি হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন বা আয়কর প্রত্যয়নপত্র, নারকোটিক পারমিট, ভ্যাট নিবন্ধন, পরিবেশ ছাড়পত্র ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা আবশ্যক।

তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা প্যাথলজিস্ট নেই। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়াই রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

মতলব উত্তর বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মতলব উত্তরে বর্তমানে প্রায় ২০টির মতো বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শিগগিরই আলোচনা করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স হালনাগাদ রেখেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা উচিত।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা বাড়লেও এসব প্রতিষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিত মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে কিংবা অনুমোদন ও লাইসেন্সের শর্ত না মেনে সেবা দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা হাসপাতাল পরিচালনা করা যাবে না। যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে কিন্তু নবায়ন করা হয়নি, তাদের দ্রুত লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। আর যারা শুধু লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে, অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত তারা কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

স্বাস্থ্য বিভাগের এমন বক্তব্যের পরও অনুমোদন ও লাইসেন্সের বাইরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান চালিয়ে অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

 

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট