
নিজস্ব প্রতিনিধি: চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নে মাদকবিরোধী র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে দূরে রাখতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় মৈশাদী বাজারে চাঁদপুর মডেল থানার আয়োজনে এ মাদকবিরোধী র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিটি মৈশাদী বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও ইউপি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা।
তিনি বলেন, এই দেশ আমাদের সবার দেশের জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। মাদককে সমাজ থেকে বিতারিত করতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ও মাদকের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসতে হবে।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাহাবুবুর রহমান স্বপনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও মৈশাদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটওয়ারী, জেলা বিএনপির সদস্য খান আঃ ছাত্তার, চাঁদপুর জেলা কৃষক দলের সভাপতি মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ খোকন, মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাহাবুবুর রহমান স্বপন ও সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম খান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তাফাজ্জল বেফারী, সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল বাসার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল মজুমদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল বেফারী, মৈশাদী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. মাহাবুব খান বাবলু, সদস্য সচিব জিএম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. ফয়সাল খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবারকে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তরুণ সমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।
পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।