
হাইমচর উপজেলা সদরের প্রধান ও বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্র আলগী বাজারে প্রতিদিন সহস্রাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হলেও সেখানে কোনো গণশৌচাগার নেই। ফলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
উপায় না পেয়ে অনেকে সংকোচ কাটিয়ে পাশের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেট ব্যবহার করছেন। এ জন্য অনেককে রোগী বা রোগীর স্বজন সেজে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে হাসপাতালের টয়লেটগুলোও বেশির ভাগ সময় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে থাকে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি গণশৌচাগার থাকলেও দূরত্বের কারণে বাজারের লোকজন সেখানে যেতে পারেন না। বাজারের একমাত্র মসজিদের টয়লেটও নামাজের সময় ছাড়া অন্য সময় বন্ধ থাকে। ফলে অনেকে খোলা ড্রেন বা রাস্তার পাশে প্রাকৃতিক কাজ সারতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ছে।
বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত একটি আধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, জরুরি প্রয়োজনে বাজারে এসে টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় বাড়ি ফিরে যেতে হয়; নইলে হাসপাতালের টয়লেট ব্যবহার করা ছাড়া উপায় থাকে না।
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুন নবী মাসুম বলেন, বাজারে গণশৌচাগার না থাকায় ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ হাসপাতালের টয়লেট ব্যবহার করেন। মানবিক কারণে কর্মীরা কাউকে বাধা দেন না। তবে এতে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং বাজারে দ্রুত শৌচাগার নির্মাণ জরুরি।
হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক বলেন, জায়গা সংকটের কারণে দীর্ঘদিনেও বাজারে গণশৌচাগার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বাজারের জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং মূল্য বেশি হওয়ায় সরকারি বরাদ্দে নির্মিত শৌচাগারটি বাজারের কিছুটা দূরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় স্থাপন করতে হয়েছে। বাজারে উপযোগী জায়গা পাওয়া গেলে নতুন ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ রক্ষায় বড় ব্যবসায়ীদের নিজস্ব শৌচাগার নির্মাণের অনুরোধও জানান তিনি।