
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আবু তাহেরের হাতে অটোবাইকের চাবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আবদুল্লাহ আল মামুন।
অটোবাইকের চাবি হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন আবু তাহের। তাঁর প্রত্যাশা—ভিক্ষা কিংবা নিয়মিত কারও সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নিজের শ্রমে উপার্জন করে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালাবেন।
প্রায় ছয় বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আবু তাহের। জীবন বাঁচাতে তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। দুর্ঘটনার আগে বিভিন্ন কাজ করে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। দুর্ঘটনার পর তাঁর একমাত্র ছেলেও নিখোঁজ হয়ে যায়।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও থেমে থাকেননি আবু তাহের। বিশেষ কৌশলে অটোবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন তিনি। কিন্তু অটোবাইকের মালিক নিজেই গাড়িটি চালানো শুরু করলে আবারও কর্মহীন হয়ে পড়েন আবু তাহের। এরপর থেকেই সংসারে নেমে আসে চরম অভাব।
আবু তাহেরের স্ত্রী জেসমিন বেগমও অসুস্থ। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও তাদের স্বামীরা দরিদ্র হওয়ায় নিয়মিতভাবে বাবা-মাকে সহযোগিতা করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিবেশীদের দেওয়া খাদ্যসামগ্রী ও সামান্য সহায়তার ওপর নির্ভর করেই চলছিল তাদের সংসার।
জেসমিন বেগম বলেন, তাদের কোনো জমিজমা নেই। তিনি নিজেও অসুস্থ। তাঁর স্বামী শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও অটোবাইক চালাতে পারেন। একটি অটোবাইক পেলে তাঁরা নিজেরাই উপার্জন করে সংসার চালাতে পারবেন।
আবু তাহের বলেন, অটোবাইক পেয়ে তিনি আবার কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। নিজের আয় দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালাতে চান তিনি।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে আবু তাহেরের জীবনসংগ্রাম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার নজরে আসে। এরপর তাঁর উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবু তাহেরকে অটোবাইক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে আবু তাহেরের সামনে আবারও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অটোবাইক চালিয়ে উপার্জনের মাধ্যমে তিনি এখন স্ত্রীর চিকিৎসা ও সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর স্বপ্ন দেখছেন।
এর আগে ফরিদগঞ্জের বড়ালী গ্রামের ছয় শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের জন্য পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। এ ছাড়া প্রান্তিক পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সড়কবাতি স্থাপনসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগেও প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।