
সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে ‘মিড-ডে মিল’ কার্যক্রম চালু করেছে। নিয়মিত এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার সরবরাহ করা হলেও ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দ ও উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধানের বিষয়টি সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয়ের শ্রেণিভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ১৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১৫ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ২৩ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৮ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। সব মিলিয়ে উপস্থিতির সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৫ জনে। অথচ বিদ্যালয়ের হিসাবে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫১ জন।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, উপস্থিত শিক্ষার্থীর তুলনায় অতিরিক্ত ৭৬ জনের নামে বরাদ্দকৃত খাবারের কীভাবে হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারি বরাদ্দের খাবার বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত খাবার থাকলে তার সংরক্ষণ, বিতরণ কিংবা সমন্বয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব থাকা উচিত বলেও তারা মনে করেন।
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহানা ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের কোনো মৌখিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে আপনাদের কোনো উত্তর দেব না। আপনারা আমার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করলে আমি তার লিখিত জবাব দেব।
প্রধান শিক্ষকের এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, সরকারি বরাদ্দের খাবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে তাদের অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে বিধি মোতাবেক অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সরকারি খাদ্য বা অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। মিড-ডে মিলের খাবারে শিক্ষার্থী সংখ্যার সঙ্গে উপস্থিতির যে তফাৎ দেখা গেছে এবং প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার যে বিষয়টি উঠেছে, তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তদন্তে যদি কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।